ঢাকার সঙ্গে শরীয়তপুরের যাতায়াতের জন্য ২০২০ সালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় চার লেনের সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়। জেলা শহর থেকে পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। ছয় বছর পার হলেও এখনও সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। শুক্রবার (১৭ মার্চ) দেখা যায়, জাজিরার রসের মোড় এলাকায় যানবাহন চলাচলে বড় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় সড়কের কয়েকটি অংশে কাজ বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে জেলা শহর থেকে জাজিরা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এবং জাজিরা টিঅ্যান্ডটি থেকে নাওডোবা পর্যন্ত চার কিলোমিটার অংশে ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারছেন না। ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখী যাত্রীদের জন্য এসব অংশ অতিক্রম করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সওজ সূত্রে জানা যায়, জেলা শহর থেকে সরাসরি ঢাকায় কোনো সড়ক ছিল না। তাই ২০২০ সালে পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জেলা শহর থেকে নাওডোবা পর্যন্ত ১৮ ফুট প্রশস্ত existing সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার জন্য ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতায় ২৭ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও নির্মাণ কাজ তিনটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়।
প্রথম প্যাকেজে জেলা শহর থেকে জাজিরা উপজেলা সদর পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার, দ্বিতীয় প্যাকেজে জাজিরা টিঅ্যান্ডটি থেকে নাওডোবা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং তৃতীয় প্যাকেজে দুটি সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত। এ প্রকল্পের সময়সীমা ইতিমধ্যেই একবার বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং আগামী জুনে দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হবে।
সড়কের অবকাঠামোর নাজুক অবস্থার কারণে দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকি বেড়েছে। পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোলপ্লাজা পার হয়ে এক্সপ্রেসওয়ে শেষ হওয়ার পর সরাসরি শরীয়তপুরে যাওয়ার সড়কটি ব্যবহার করতে গিয়ে যানবাহনগুলি প্রায়ই বিপদে পড়ছে। প্রতিদিন বহু পণ্যবাহী, যাত্রীবাহী এবং ব্যক্তিগত যানবাহন এ পথ ব্যবহার করছে, ঈদের সময় এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়।
শরীয়তপুর-ঢাকার পথে প্রতিদিন বাস চালান আবদুল হান্নান বলেন, সড়কটি দিয়ে চলাচল খুবই ভোগান্তিকর। খানাখন্দের কারণে বাসের যান্ত্রাংশ ভেঙে পড়ে এবং তখন সমস্ত যানবাহন আটকে যায়। এতে অন্তত এক ঘণ্টা পর্যন্ত যানজটে সময় দিতে হয়।
সওজের শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন জানান, ‘সড়কটি সম্পূর্ণ না হওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। তবে কিছু স্থানে এখনো জমি অধিগ্রহণ হয়নি। তাই ঠিকাদার সেখানে কাজ করতে পারছে না। সড়ক নির্মাণের মেয়াদ আগামী জুনে শেষ হবে। আমরা আরও এক বছর সময় বৃদ্ধি করার জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য সব দপ্তরকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু দুটি এলাকায় দুই কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি। বাকি সব অংশে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
সিএ/এমই


