ইসলামের প্রাথমিক যুগে নারী সাহাবিরা কেবল গৃহস্থালির কাজে সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ইতিহাস ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় দেখা যায়, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ এবং সমাজসেবাসহ বিভিন্ন পেশায় তাদের অংশগ্রহণ ছিল।
চিকিৎসা ও সেবাকাজে কিছু নারী সাহাবির বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হজরত উম্মে আতিয়া আল-আনসারিয়া (রা.)। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সাহাবিদের সেবা করতেন। একইভাবে হজরত রুফাইদা আল-আসলামিয়া (রা.) ইসলামের ইতিহাসে প্রথম দিকের নার্সদের একজন হিসেবে পরিচিত, যিনি যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা ও সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নারী সাহাবিদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। মহানবী (সা.)-এর সহধর্মিণী হজরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি নিজস্ব বাণিজ্য কাফেলা পরিচালনা করতেন এবং কর্মচারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
কৃষিকাজেও কিছু নারী সাহাবির সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা জানা যায়। হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) নিজের হাতে কৃষিকাজ করতেন এবং খেজুর বাগানের দেখাশোনা করতেন বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেও নারী সাহাবিদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.)-এর সহধর্মিণী হজরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.) ছিলেন অন্যতম বড় আলিমা। তিনি অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং বহু সাহাবি তার কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেছেন।
এ ছাড়া হস্তশিল্প ও কারুশিল্পেও অনেক নারী সাহাবির অংশগ্রহণ ছিল। হজরত জয়নব বিনতে জাহশ (রা.) নিজের হাতে বিভিন্ন কাজ করতেন এবং সেই আয় থেকে দান-সদকা করতেন।
যুদ্ধক্ষেত্রেও কিছু নারী সাহাবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নুসাইবা বিনতে কাব (রা.) উহুদের যুদ্ধে মহানবী (সা.)-কে রক্ষা করতে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। একইভাবে মহানবী (সা.)-এর ফুফু হজরত সাফিয়্যা (রা.) উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধে দৃঢ়তা ও সাহসিকতার পরিচয় দেন।
এছাড়া অনেক নারী সাহাবি যুদ্ধক্ষেত্রে পানি পৌঁছে দেওয়া, আহতদের সরিয়ে নেওয়া এবং চিকিৎসা সেবায় সহযোগিতা করেছেন। প্রসূতি সেবার ক্ষেত্রেও কিছু নারী সাহাবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন, যাকে বর্তমান সময়ে ধাত্রী বা দাই হিসেবে পরিচিত।
ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসলামের প্রাথমিক যুগেই নারী সাহাবিরা সমাজ, অর্থনীতি ও জ্ঞানচর্চায় সক্রিয় অবদান রেখেছেন। এতে বোঝা যায়, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ তখনও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ছিল।
সিএ/এমআর


