কাশি মানুষের শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া। ধুলা, ভাইরাস বা অ্যালার্জিজনিত কোনো উপাদান শ্বাসনালিতে প্রবেশ করলে শরীর কাশির মাধ্যমে তা বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই কাশি সাধারণ সর্দি-কাশির কারণে হয়ে থাকে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই নিজে থেকেই সেরে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। এ সময় হালকা জ্বর, গলাব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা শরীর দুর্বল লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান, গরম পানির ভাপ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ কাশির ওষুধ ব্যবহার করলে এসব সমস্যা থেকে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
তবে সব ধরনের কাশি সাধারণ নয়। অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা কাশি গুরুতর রোগের লক্ষণও হতে পারে। যদি কাশি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, কফের সঙ্গে রক্ত বের হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুক ব্যথা বাড়তে থাকে বা অকারণে শরীরের ওজন কমে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের লক্ষণ ফুসফুসের বিভিন্ন সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা কিংবা কিছু ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্যানসারের মতো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও দীর্ঘস্থায়ী কাশি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধূমপানকারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।
এ ছাড়া সিওপিডি নামের দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসজনিত রোগেও দীর্ঘদিন কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় ফুসফুসের ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় শুধুমাত্র একটানা কাশির মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে থাকেন।
দীর্ঘস্থায়ী কাশির পেছনে অ্যালার্জি, অ্যাজমা, গ্যাস্ট্রিক রিফ্লাক্স কিংবা হৃদ্যন্ত্রের সমস্যাও দায়ী হতে পারে। তাই কাশির ধরন, সময়কাল এবং এর সঙ্গে থাকা অন্যান্য উপসর্গ বিশ্লেষণ করে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ধূমপান পরিহার করা উচিত এবং বসবাসের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন। ঠান্ডা আবহাওয়া ও অতিরিক্ত ধুলাবালি থেকে নিজেকে দূরে রাখা ভালো। গরম পানীয় যেমন মধু, লবঙ্গ বা গরম চা পান করলে অনেক সময় উপকার পাওয়া যায়।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনহেলার বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করাই ভালো। কাশি যদি অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী হয় বা জটিল মনে হয়, তাহলে দেরি না করে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সঠিক সময়ে সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
সিএ/এমআর


