জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিহত শারমীন জাহান (খাদিজা) চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। তাঁর স্বামী ফাহিম আল হাসান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই নিহত ছাত্রীর স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। পরে রোববার দিবাগত রাতে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোমবার সকালে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শারমীন জাহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী ফাহিম আল হাসান ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছরের ২৪ জুন তাঁরা বিয়ে করেন এবং পরে বিষয়টি পরিবারকে জানান।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁরা বসবাস শুরু করেন। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। শারমীন বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও জানিয়েছিলেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৫ মার্চ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ফাহিম মুঠোফোনে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে ফোন করে জানান, শারমীন গুরুতর অসুস্থ। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শারমীনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শারমীনের কপালের ডান পাশে ও মাথার ওপর গভীর কাটা রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন দেখা গেছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান এক বিবৃতিতে বলেন, শারমীন জাহানের হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। তিনি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) ও জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
জাকসুর সহসভাপতি আবদুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, শারমীনের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকা, সেই সঙ্গে বাসা থেকে ল্যাপটপ ও ফোন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অস্বাভাবিক ও নৃশংস মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সিএ/এমই


