রাজশাহীতে রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাতে ৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকদের মতে, এই বৃষ্টি জেলার অন্যতম প্রধান ফল আমের জন্য উপকারী হয়েছে এবং এতে আমচাষিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। গত শনিবার মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রোববার দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। পরে রাত ৯টার দিকে হালকা ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয় এবং রাত ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি শূন্য দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষক রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ সময়ে কালবৈশাখীর কারণে বৃষ্টি হবে, তখন তাপমাত্রা কমে আসবে। আবার তাপমাত্রা বাড়বে। এগুলো এই মৌসুমের স্বাভাবিক ঘটনা।’
কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এই সময়ে আমগাছে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে আমের গুটি ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। আবার বর্তমানে সেচের জন্য ডিজেল সংগ্রহ করতেও অনেক কৃষককে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থায় বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
পুঠিয়ার আমচাষি মাহবুব ইসলাম বলেন, ‘এ বছর গাছগুলোতে প্রচুর মুকুল এসেছে। তাঁর প্রতিটি গাছে সেচ দিতে হতো। গত রাতে বৃষ্টি হওয়ায় কিছুদিন সেচ দিতে হবে না। আর এই বৃষ্টিতে আমের গুটি দৃশ্যমান হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এই বৃষ্টিতে বোঁটা শক্ত হবে। এখন একবার স্প্রে করতে হবে।’
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। যেখানে মোট ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, জেলার কোথাও কোথাও তুলনামূলক বেশি আবার কোথাও কম বৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী গড়ে ২ দশমিক ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টি আমের জন্য বেশ উপকারী হয়েছে। একই সঙ্গে পানি জমে না থাকায় মাঠে থাকা আলু ও গমের ফসলেরও কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
সিএ/এমই


