পবিত্র মাহে রমজান শেষের পথে। এই মাহে বরকতের শেষ দশকের একটি বিশেষ রাত মুসলমানদের জন্য অশেষ রহমত ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে আসে, যা লাইলাতুল কদর বা শবে কদর নামে পরিচিত। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে ইবাদত করা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”
মুমিনদের জন্য এই মহামূল্যবান রাতকে কাজে লাগানোর জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথমত, নির্দিষ্ট রাতটি খোঁজার চেষ্টা করা। লাইলাতুল কদর ঠিক কোন রাতে হবে তা নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। তবে ইসলামী বিধান অনুযায়ী রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে, অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হয়। তাই এই রাতগুলোতে ইবাদতের প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, ইতিকাফের মাধ্যমে মনোযোগ বাড়ানো। রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নত। তবে কেউ পুরো সময় থাকতে না পারলেও সাধ্যমতো কিছু সময় ইতিকাফের নিয়ত করতে পারেন। এতে পার্থিব ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করা সহজ হয়।
তৃতীয়ত, ইবাদতের একটি রুটিন তৈরি করা। তারাবির নামাজের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টুকু ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করা উচিত। এই সময়ে কোরআন তিলাওয়াত, অর্থসহ কোরআন পাঠ, নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা যেতে পারে। পাশাপাশি একান্ত মনে দোয়া ও মোনাজাত করা গুরুত্বপূর্ণ।
চতুর্থত, বিশেষ দোয়া ও দান-সদকার গুরুত্ব রয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) একবার রাসূল (সা.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কদরের রাতে কোন দোয়াটি পড়া উত্তম। নবীজি (সা.) শিখিয়েছিলেন— আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি। অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।
পঞ্চমত, আল্লাহর কাছে নিজের চাওয়া ও আগামীর পরিকল্পনা তুলে ধরা। জীবনের দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যগুলো মনে রেখে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেতে পারে। একইসঙ্গে রমজানে অর্জিত আত্মশুদ্ধি ও ভালো অভ্যাসগুলো ভবিষ্যতেও ধরে রাখার অঙ্গীকার করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পবিত্র এই রাতটি আত্মশুদ্ধি ও আত্মসমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাই অলসতা না করে ইবাদতের মাধ্যমে এই রাতের রহমত ও বরকত লাভের চেষ্টা করা উচিত।
সিএ/এমআর


