বরিশাল সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান (শিরিন)। শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বরিশালের পাশাপাশি রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনেও নতুন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ২৫-ক উপধারা (১) অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এসব প্রশাসক পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের সময় তারা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সম্মানী ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বিলকিস আক্তার জাহান বলেন, ‘আমি প্রথমেই দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ বরিশালের মানুষের সেবা করার জন্য তিনি আমাকে মনোনীত করেছেন।’ তিনি জানান, বরিশাল নগরে নাগরিক সমস্যার শেষ নেই এবং এসব সমস্যা সমাধানে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।
তিনি বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে বরিশালকে একটি বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান। বিশেষ করে সুপেয় পানির সংকট, জলাবদ্ধতা, যানজট ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও বসবাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহায়তাও কামনা করেছেন তিনি।
২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে একযোগে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার (সংশোধন) আইন, ২০২৪ প্রয়োগ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। পরে বরিশালসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে বিভাগীয় কমিশনার বা সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিলকিস আক্তার জাহান বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং বরিশাল ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৮৭ সালে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯০ সালে একই কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং ১৯৯৬ সালে বরিশাল জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
এদিকে ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর বরিশাল নগরের ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় একটি পুকুর ভরাট করে দখলের অভিযোগ ওঠে বিলকিস আক্তার জাহান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। সে সময় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁর দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে তখন তিনি বলেন, ‘পুকুরটি আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি, এটা ঠিক। তবে ওখানে আমার কোনো জমি নেই। আমি ভরাট করতে যাব কী কারণে? পুকুরটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য দান করার বিষয়টি সত্য নয়। পুকুর ভরাটে আমি বা আমার পরিবারের কেউ জড়িত নই। ওই পুকুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার জমির মালিক প্রায় ৩০ জন। তাঁদের কেউ হয়তো ভরাট করেছে। আমাকে বিতর্কিত করার জন্য কেউ এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর তিন মাস পর গত বছরের ২২ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি বিলকিস জাহানের পদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে।
সিএ/এমই


