স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভাণ্ডার। ব্যাংকিং তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, বার্তা ও নানান গুরুত্বপূর্ণ ডেটা এই ছোট ডিভাইসেই সংরক্ষিত থাকে। তবে ফোন মেরামতের জন্য সার্ভিস সেন্টারে জমা দিতে হলে অনেক সময় ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এই ঝুঁকি কমাতে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ফোনে বিশেষ ‘রিপেয়ার মোড’ বা ‘মেইনটেন্যান্স মোড’ সুবিধা যুক্ত করেছে। এই সুবিধা চালু থাকলে টেকনিশিয়ানরা ফোনের হার্ডওয়্যার যেমন ক্যামেরা, স্পিকার বা ডিসপ্লে পরীক্ষা করতে পারেন, কিন্তু ব্যবহারকারীর গ্যালারি, কন্টাক্ট লিস্ট বা ইমেইলের মতো ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পারেন না।
সাধারণত সার্ভিস সেন্টারে ফোন জমা দেওয়ার সময় টেকনিশিয়ানরা পরীক্ষা করার জন্য ফোনের লক খুলে দিতে বলেন। তখন পাসওয়ার্ড অন্যের কাছে চলে গেলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রিপেয়ার মোড চালু থাকলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায় এবং ব্যবহারকারীর ডেটা নিরাপদ থাকে।
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোনে এই সুবিধা চালুর পদ্ধতিও ভিন্ন। আইফোন ব্যবহারকারীরা সেটিংসে গিয়ে জেনারেল অপশনের ভেতরে ট্রান্সফার অ্যান্ড রিসেট ফোন অংশে ‘প্রিপেয়ার ফর রিপেয়ার’ অপশন চালু করতে পারেন। ওয়ানপ্লাস ফোনে সেটিংসের প্রাইভেসি অপশন থেকে রিপেয়ার মোড চালু করা যায়।
স্যামসাং ব্যবহারকারীরা ফোনের সেটিংস থেকে ডিভাইস কেয়ার অপশনে গিয়ে মেইনটেন্যান্স মোড চালু করতে পারেন। গুগল পিক্সেল ফোনে সেটিংসে গিয়ে সরাসরি ‘রিপেয়ার মোড’ লিখে খুঁজেও এটি চালু করা সম্ভব। ভিভো ও রেডমি ফোনেও প্রাইভেসি বা প্রাইভেসি প্রোটেকশন অংশে এই অপশন পাওয়া যায়।
তবে রিপেয়ার মোড চালু করার আগে ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যাকআপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। কারণ অনেক সময় হার্ডওয়্যার সমস্যার কারণে সার্ভিস সেন্টারে ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করা হতে পারে। ফোনটি মেরামত শেষে নিজের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এই মোড বন্ধ করলে ফোন আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
সিএ/এমআর


