রমজান মাস কুরআন নাজিলের মাস হিসেবে পরিচিত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, রমজান মাসে কুরআন মানুষের জন্য হেদায়েতস্বরূপ নাজিল হয়েছে (সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)। প্রথম নাজিল হয়েছিল হেরা গুহায় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর।
রমজান কেবল সিয়াম-সাধনার নয়; এটি কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার মাস। কুরআনের প্রকৃত লক্ষ্য হলো অনুশীলন, অনুধাবন ও জীবনে প্রয়োগ। শুধুমাত্র তেলাওয়াত, খতম বা সামাজিক মাধ্যমে আয়াত শেয়ার যথেষ্ট নয়। কুরআন সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, আমানতদারিতা ও সহমর্মিতা শেখায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রতারণা, পারিবারিক ও সামাজিক আচরণে অবহেলা থাকলে কুরআনের শিক্ষা পুরোপুরি প্রয়োগ হয় না।
কুরআন বোঝার চেষ্টা জরুরি। ভাষা না জানলে অনুবাদ, তাফসির অধ্যয়ন, আলেমদের বয়ান ও দরসে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বার্তা হৃদয়ে ধারণ করা যায়। কুরআনকে কেবল সওয়াবের গ্রন্থ হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত শক্তি হারিয়ে যায়। এটি সমাজ সংস্কার, আত্মশুদ্ধি এবং জাতীয় পুনর্জাগরণের শক্তি।
রমজান আমাদের জিজ্ঞেস করে, কুরআন কি আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে? অন্যায়ের প্রতিবাদে সাহস যোগায়? কেবল তেলাওয়াত নয়, জীবনে কুরআনের আলোকে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


