গরমের দিনে ঠান্ডা তরমুজ খেতে গিয়ে অনেক সময় অসাবধানতাবশত বীজ গিলে ফেলেন অনেকে। এ নিয়ে অনেকের মনে ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের ভয় কাজ করে। অনেকেই মনে করেন তরমুজের বীজ গিলে ফেললে পেটে সমস্যা হতে পারে কিংবা গাছ পর্যন্ত গজাতে পারে। তবে বাস্তবে এসব ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজের বীজ গিলে ফেললে সাধারণত শরীরে কোনো ক্ষতি হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব বীজ হজম না হয়ে স্বাভাবিকভাবেই শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বরং সঠিকভাবে খেলে এই ছোট বীজের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ।
তরমুজের বীজ আকারে ছোট হলেও এতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বিশেষ করে এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া যায়, যা শরীরের শক্তি বৃদ্ধি এবং হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া তরমুজের বীজে মনো ও পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে, যা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জিঙ্ক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। তরমুজের বীজ সেই ঘাটতি পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এতে থাকা আয়রন রক্ত তৈরিতে সহায়তা করে এবং অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে উপকারী হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজের বীজ হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়ক এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া উন্নত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। গরমের সময়ে শরীরের ক্লান্তি কমাতেও এটি কার্যকর হতে পারে।
তবে কাঁচা অবস্থায় বীজ গিলে ফেললে খুব বেশি পুষ্টি পাওয়া যায় না। বীজ আলাদা করে ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে হালকা ভেজে খাওয়া যেতে পারে। চাইলে এতে সামান্য লবণ, লঙ্কা বা আমচুর মিশিয়ে খাওয়া যায়। এছাড়া সালাদ বা স্মুদির সঙ্গেও এটি ব্যবহার করা সম্ভব।
তবে যেকোনো খাবারের মতো এটিও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। বেশি পরিমাণে খেলে হজমে অস্বস্তি বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
সিএ/এমআর


