স্মার্টফোনের ওপর নির্ভর করেন না। তাদের যোগাযোগ, তথ্য আদান–প্রদান এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয় বিশেষভাবে কাস্টমাইজড, এনক্রিপ্টেড এবং অত্যন্ত নিরাপত্তা–সমৃদ্ধ ডিভাইস।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রটোকলের আওতায় একটি নিয়ন্ত্রিত ও সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করেন। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন কিছু স্মার্টফোন ও যোগাযোগ প্রযুক্তি রয়েছে যেগুলো অত্যাধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ও শক্তিশালী এনক্রিপশন ব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সীমিত পরিসরে ব্যবহার করা হয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ধরনের নিরাপদ স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের উন্নত প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি যে ফোনটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ডিভাইসগুলোর শীর্ষ ১০ তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে নেই বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতামত রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা–সমৃদ্ধ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। রাশিয়ায় নিরাপদ ল্যান্ডলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থা, সীমিত ব্যবহারের কাস্টমাইজড স্মার্টফোন, ভার্চু সিকিউর ফোন এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়।
ইসরায়েলে কাস্টম এনক্রিপ্টেড অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস, অভ্যন্তরীণ স্যাটেলাইট ফোন, সাইবার নিরাপত্তা উপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মিলিটারি–গ্রেড এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য পরিবর্তিত বা মডিফাইড নিরাপদ আইফোন ব্যবহার করা হয়, যা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ)–এর কাস্টম নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত এবং মিলিটারি–গ্রেড এনক্রিপশন দ্বারা সুরক্ষিত।
চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়ায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত কাস্টম এনক্রিপ্টেড স্মার্টফোন এবং সরকারি নিরাপদ যোগাযোগ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, যা সাইবার বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। জার্মানিতে ব্ল্যাকবেরি সেকুস্মার্ট এনক্রিপ্টেড স্মার্টফোন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ডিভাইস এবং সরকার অনুমোদিত নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশেও সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা–সমৃদ্ধ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত দেশগুলোতে রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং চলাচল ব্যবস্থায় অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সাইবার সুরক্ষায় আরও জোরদার নজরদারি প্রয়োজন বলে মত দেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সমৃদ্ধ স্মার্টফোন তৈরি করেছে, যেগুলো বিশেষ করে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য পরিচিত। এর মধ্যে রয়েছে পিউরিজম লাইব্রেম ৫, বিট্টিয়াম টাফ মোবাইল ২সি, ব্ল্যাকফোন ২ – সাইলেন্ট ওএস, গভর্নমেন্ট সিকিউর আইফোন – কে-আইফোন ভ্যারিয়েন্ট, কাস্টমাইজড সিকিউর আইফোন, থুরায়া এক্স৫ ও এস৪২, ইরিডিয়াম এক্সট্রিম, থুরায়া স্যাটস্লিভ সিস্টেম, বোয়িং ব্ল্যাক স্মার্টফোন, ব্ল্যাকবেরি সেকুস্মার্ট, কাতিম আর০১ সিকিউর ফোন, এইচএমডি ইভালো সিকিউর ডিভাইসেস, আইফোন – কাস্টম সিকিউর ভার্সন, সিরিন ল্যাবস সোলারিন এবং সিরিন ল্যাবস ফিনি ইউ১।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–নির্ভর সাইবার প্রতিরক্ষা, কোয়ান্টাম এনক্রিপশন এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক নিরাপদ যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে।
সিএ/এমআর


