নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মাত্র ছয় মাসে পবিত্র কোরআন সম্পূর্ণ মুখস্থ করে আলোচনায় এসেছে ১০ বছর বয়সী শিশু আবু বকর সিদ্দিক। তার এই অসাধারণ সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন পরিবার, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
আবু বকর সিদ্দিক হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরচেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হাজী মুখলেছুর রহমানের বাড়ির শিক্ষক মো. বেলাল উদ্দিন ও মোসাম্মৎ আয়েশা ছিদ্দিকা দম্পতির সন্তান। কোম্পানীগঞ্জের দারুল আরকাম মাদরাসার হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করে মাত্র ছয় মাসে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে সে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সিদ্দিকের পরিবারে আরও কয়েকজন কোরআনের হাফেজ রয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই কোরআনের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই ২০২৫ সালের শুরুতে তাকে কোম্পানীগঞ্জের দারুল আরকাম মাদরাসার হিফজ বিভাগে ভর্তি করানো হয়।
মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান এবং পরিবারের উৎসাহে প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো কোরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হয় সিদ্দিক। তার এই কৃতিত্ব এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শিশু হাফেজ আবু বকর সিদ্দিক জানায়, ছোটবেলা থেকেই সে কুরআন তিলাওয়াত করতে ভালোবাসে। মাদরাসার শিক্ষকদের সহযোগিতা ও পরিবারের অনুপ্রেরণায় সে নিয়মিত পড়াশোনা করেছে। ভবিষ্যতে সে একজন বড় আলেম ও দেশবরেণ্য হাফেজ হতে চায়।
তার বাবা মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ছোটবেলা থেকেই ছেলের মধ্যে কোরআনের প্রতি আগ্রহ দেখেছি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেই তাকে হিফজে ভর্তি করাব। আল্লাহর রহমতে অল্প সময়ের মধ্যেই সে পুরো কোরআন মুখস্থ করতে পেরেছে। একজন বাবা হিসেবে এটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। আমি চাই আমার ছেলে ভবিষ্যতে একজন যোগ্য আলেম হয়ে দ্বীনের খেদমত করুক। এজন্য সবার কাছে তার জন্য দোয়া চাই।
মাদরাসার হিফজ বিভাগের প্রধান হাফেজ মুহাম্মদ মুনাওয়ার বলেন, শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান ও পরিবারের সহযোগিতায় সিদ্দিক দ্রুত কুরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা আশা করি সে ভবিষ্যতে বড় আলেম হয়ে ইসলামের খেদমত করবে। এত অল্প বয়সে তার এমন কৃতিত্ব অন্য শিশুদেরও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।
মাদরাসার সহকারী মুহতামিম মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, সিদ্দিক খুব মনোযোগী ও পরিশ্রমী ছাত্র। নিয়মিত অধ্যবসায়ের কারণেই সে অল্প সময়ের মধ্যে কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করতে পেরেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও সিদ্দিকের এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
সিএ/এমআর


