বৈশ্বিক তেলের সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার নতুন উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মার্চে মোট ১৬টি জাহাজ তেল আনার কথা থাকলেও, গতকাল পর্যন্ত ৬টি জাহাজ এসেছে। আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে আরও তিনটি জাহাজ আসার আশা করা হচ্ছে। ৩১ মার্চের মধ্যে বাকি ৭টি জাহাজ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সরবরাহ সংকট হওয়ার কথা নয়। তবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানি ব্যাহত হতে পারে। তাই সরকার চুক্তির বাইরে নতুন উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে।
বিকল্প উৎস ও উদ্যোগ
- ইরানের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ নিরাপদে পার হওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
- ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আমদানির প্রস্তাব আছে; এ বছরের জানুয়ারি-জুনের মধ্যে ইতিমধ্যে দুটি চালানে ১০ হাজার টন ডিজেল এসেছে।
- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ‘এ অ্যান্ড এ এনার্জি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এলএলসি’ ২ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।
- ভারত ছাড়াও আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানির বিষয়েও কাজ চলছে।
- সমুদ্রপথে ভারত থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সরবরাহ পরিস্থিতি ও দাম
- দেশে পেট্রল শতভাগ, অকটেনের ৫০% উৎপাদন হয়। চিন্তা মূলত ডিজেল নিয়েই।
- বিপিসির সরবরাহের ৭০% জ্বালানি হলো ডিজেল, যা শিল্প, কৃষি, পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।
- যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম ছিল ৮৮ ডলার, এখন বেড়ে ১৪৬ ডলারে পৌঁছেছে।
- বিকল্প উৎস থেকে তেল আনলে দাম বেশি হলেও দেশের প্রয়োজনে সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।
প্রশাসনিক ব্যবস্থা
- মার্চে তেলের সরবরাহ সীমা কিছুটা বাড়ানো হতে পারে।
- পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বিপিসিকে সরবরাহ সীমা বৃদ্ধি করতে চিঠি দিয়েছে।
- সরকারের লক্ষ্য, এপ্রিল ও মে মাসের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা।
সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সরাসরি দরপত্র বা জিটুজি প্রক্রিয়ায় নতুন উৎস থেকে তেল কেনা হতে পারে। এতে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং দেশের প্রয়োজন মেটানো সহজ হবে।
সিএ/এমই


