নেত্রকোনার মদন পৌরসভা এলাকায় শ্বশুরের বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক জামাতা ও তাঁর বাবা। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। রোববার (৯ মার্চ) রাতে পৌরসভার শ্যামলী রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুজন হলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা সদরের মধ্যবাজার এলাকার বাসিন্দা বরুণ চন্দ্র কর্মকার (৪৫) ও তাঁর ছেলে তরুণ চন্দ্র কর্মকার (২২)। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নেশার টাকার জন্য তাঁরা শ্বশুরের বাড়িতে চুরির চেষ্টা করেছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমূল্য চন্দ্র দাসের মেয়ের সঙ্গে তরুণ চন্দ্র কর্মকারের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস পর তরুণ তাঁর স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে শ্বশুরের বাড়িতে ওঠেন। পরে তাঁরা ওই এলাকায় অন্য একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
জানা গেছে, তরুণের বাবা বরুণ চন্দ্র কর্মকার পৌরসভার মাতৃ জুয়েলার্স নামে একটি সোনার দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। তবে বাবা–ছেলে দুজনই দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত হওয়ায় বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার করেন। এতে তাঁদের ওপর পাওনাদারদের চাপ বাড়তে থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নেশার টাকা জোগাড় ও পাওনাদারের দেনা শোধ করতে তরুণ তাঁর শ্বশুরের কাছে কিছু টাকা ধার চান। টাকা না পেয়ে তিনি ও তাঁর বাবা মিলে শ্বশুরের বাড়ি থেকে ছয় আনা ওজনের সোনার গয়না আলমারি থেকে নিয়ে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্যও দেখা দেয়।
এরই মধ্যে রোববার রাত প্রায় নয়টার দিকে আবারও বাবা–ছেলে মিলে শ্বশুরের বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে ঢোকেন। এ সময় আলমারি ভেঙে চার আনা ওজনের একটি কানের দুল ও কিছু টাকা নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাঁদের হাতে–নাতে ধরে ফেলেন। পরে তাঁদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাবা–ছেলে দুজনই নেশার টাকার জন্য চুরির চেষ্টা করার কথা স্বীকার করেন।
অভিযুক্ত বরুণ চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘টাকার চাপ ছিল। তাই কয়েক দিন আগে বিয়াইয়ের ঘর থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে বিক্রি করে দিছিলাম। এটা করা আমাদের ঠিক হয়নি।’
তাঁর ছেলে তরুণ চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘আমি আগে নেশা করতাম, কিন্তু এখন আর ইয়াবা খাই না। আমার শ্বশুরের ঘর থেকে সোনার অলংকার চুরি করছি আরও এক সপ্তাহ আগে। এটা করা আমাদের ঠিক হয়নি। আজ (গতকাল) চুরি করতে গিয়া ধরা পড়লাম। এখন লজ্জা লাগতাছে।’
এ বিষয়ে অমূল্য চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই ও তার বাবা দুজনই নেশাগ্রস্ত। আমি আগে ভালো করে খোঁজখবর না নিয়ে মেয়ের বিয়া দিয়া ভুল করছি। চুরি করার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।’
সিএ/এমই


