নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর হত্যার মূল দায়িত্ব সৎবাবা আশরাফ আলীর ওপর এসেছে। পুলিশ জানায়, আশরাফ আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এ সময় জানা গেছে, তিনি হত্যার দায় এড়াতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন।
পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক বলেন, কিশোরীর নানা কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে আশরাফ আলী হত্যাকাণ্ড একা সংঘটিত করেন। হত্যার আগে তিনি কিশোরীকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এক সহকর্মীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে শর্ষেখেতের সামনে পেছন থেকে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর লাশ ওই স্থানে রেখে বাড়ি ফিরে যান।
মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, হত্যার ১০–১২ দিন আগে কিশোরীকে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা এবং হযরত আলীর বাড়িতে ধর্ষণ করা হয়েছিল। কিশোরী এ ঘটনার বিচার চাইতে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যান। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের একটি শর্ষেখেত থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার হয়।
মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষণের সঙ্গে যুক্ত নূর মোহাম্মদ নূরা, হযরত আলীসহ চারজন, হত্যার দায়ে আশরাফ আলী একজন, এবং অবৈধ সালিশে জড়িত থাকার দায়ে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। একজন, আবু তাহেরকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে সৎবাবা আশরাফ আলী (৪০), নূর মোহাম্মদ নূরা (২৮), হযরত আলী (৪০), মো. গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), ইছহাক ওরফে ইছা (৪০) এবং মো. আইয়ুব (৩০) রয়েছেন।
মামলার তদন্ত এখনো চলছে।
সিএ/এমই


