কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছে বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়া প্রায় পাঁচ মণ ওজনের বিশাল বোল মাছ টেকনাফে কেটে বিক্রি করা হয়েছে। মাছটির প্রতি কেজি দাম ছিল ২ হাজার টাকা। পুরো মাছটি বিক্রি করতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
মাছটির ওজন ছিল পাঁচ মণ পাঁচ কেজি (২০৫ কেজি)। কেটে প্রায় ২০০ কেজি মাছ পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে মোট বিক্রি হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। মাছটি কিনেছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাফর ও সাইফুল ইসলাম। তারা মাছটি আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজারের আড়ত থেকে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছিলেন।
স্থানীয় মৎস্যজীবী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ–পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের শীলেরকুম এলাকায় জাল ফেলেন টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা মো. নাছির ও কায়সার উদ্দিনের মালিকানাধীন একটি ট্রলার। বিকেলে অন্যান্য মাছের সঙ্গে বিশাল বোল মাছটি জালে ধরা পড়ে। পরে ট্রলারের জেলেরা মাছটি টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজারের আড়তে নিয়ে আসেন।
জেলেরা শুরুতে মাছটির দাম তিন লাখ টাকা হাঁকান। পরে কয়েকজন ব্যবসায়ীর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত মাছটি বিক্রি হয় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায়। এতে প্রতি কেজির দাম পড়ে প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকা।
আজ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন বাজারে মাছটি কেটে বিক্রি করা হয়। বেলা দুইটার দিকে ছয়জন শ্রমিক রশি দিয়ে বাঁধা মাছটি কাঁধে করে বাজারে নিয়ে আসেন। এ সময় শতাধিক মানুষ মাছটি দেখতে ভিড় করেন এবং অনেকে মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাফর বলেন, প্রথমে প্রতি কেজি ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত ছিল। তবে মানুষের আগ্রহ বেশি দেখেই দাম বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়। ক্রেতাদের মধ্যে কে আগে কিনবেন তা নিয়ে প্রতিযোগিতা হয় এবং মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পুরো মাছটি বিক্রি হয়ে যায়। তিনি জানান, মাছ বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে লাভ দাঁড়াবে প্রায় এক লাখ টাকার মতো।
টেকনাফ পৌরসভার বিভিন্ন ব্যবসায়ীও কয়েক কেজি করে মাছ কিনেছেন। স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম বলেন, এত বড় বোল মাছ খুব কমই জালে ধরা পড়ে। সেন্ট মার্টিনের প্রবাল ও পাথুরে এলাকায় এ মাছের বিচরণ বেশি। অনুকূল পরিবেশে বোল মাছের ওজন ৯–১০ মণ পর্যন্তও হতে পারে। মাছটি খেতেও সুস্বাদু।
সিএ/এমই


