ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৮৫, যার মধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন। রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নারীরা নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও জয়লাভ করছে, যা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতিফলন। তাই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে ‘রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্ব ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সংলাপ ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে এ বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনে নারীদের অভিজ্ঞতা, সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে করণীয় তুলে ধরেন।
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, গণমাধ্যম নারীদের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করলে নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব। অ্যাসিড সন্ত্রাস কমিয়ে আনার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সচেষ্ট হলে ও চাপ প্রয়োগ করলে সমাজে পরিবর্তন আনা যায়।
একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের প্রথম শর্ত হল সহিংসতামুক্ত নিরাপদ পরিবেশ। সাইবার বুলিং নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে নারীরা সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে তাদের উপস্থিতি কমেছে। তিনি সংসদ ও বাইরে নারী ককাস গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), চৌধুরী নায়াব ইউসুফ (ফরিদপুর-৩), তাসনিম জারা (ঢাকা-৯), নাবিলা তাসনিদ (ঢাকা-২০), তাসলিমা আখতার (ঢাকা-১২), নাসরিন সুলতানা (ঢাকা-১০), এবং হিজড়া প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী। তাঁরা নির্বাচনী প্রচার ও অনলাইনে হয়রানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার তাহেরা জাবীন, ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র জেন্ডার অ্যানালিস্ট শারমিন ইসলাম, জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাখসান্দ এবং একশনএইড বাংলাদেশের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি টিম লিড মরিয়ম নেসা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নাট্য সংগঠন পালাকার ‘চেনা পরবাস’ নাটক পরিবেশন করে।
সিএ/এমই


