বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান ওরফে রিয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে তিনি চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। একই মামলায় গ্রেপ্তার অপর তিন শিক্ষার্থীর রিমান্ড আবেদন ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
কারাগারে পাঠানো তিন আসামি হলেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরমান আলী চার আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক অজ্ঞাতনামা আসামিদের পূর্ণ পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করতে তাঁদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং বাকি তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নির্জন সরদারের সঙ্গে আসামি রাজ্জাক ও তাঁর সহযোগীদের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে তিনটার দিকে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চতুর্থ তলার ৪১২ নম্বর কক্ষে তাঁদের মধ্যে দেখা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও সমাবর্তনে অংশগ্রহণের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল।
একপর্যায়ে আবদুর রাজ্জাকের নির্দেশে রিয়াদুল হাওলাদার ও সায়েম শিকদার চেয়ার দিয়ে নির্জনের পিঠ ও বুকে আঘাত করেন। পরে রাজ্জাক নিজের কাছে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্জনের মুখমণ্ডলে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাঁর নাকের ওপরের অংশ কেটে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।
এ সময় ভুক্তভোগীর বন্ধু ও শিক্ষকেরা এগিয়ে এলে আসামিরা তাঁদেরও ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পরে খবর পেয়ে গুলশান থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিদের আটক করে।
পুলিশ জানায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে আটটার দিকে গুলশান এলাকা থেকে আবদুর রাজ্জাক ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আগে থেকেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ২৬ জুলাই রাজধানীর গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
সিএ/এমই


