খুলনা নগরে রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ হত্যাকাণ্ডে তিনটি পৃথক ‘কিলার গ্রুপ’ অংশ নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার ( ৫ ডিসেম্বর) রাতে নগরের ডাকবাংলো মোড় এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁকে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একটি গ্রুপ গুলি চালায়, আরেকটি গ্রুপ ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় এবং তৃতীয় একটি দল হামলাকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। এ ঘটনায় জাভেদ পাটোয়ারী নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ অশোক ঘোষ নামের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে স্ত্রী ও ভাতিজার মেয়েকে নিয়ে রূপসার বাগমারা গ্রামের বাড়ি থেকে খুলনায় আসেন মাসুম বিল্লাহ। খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে এক রোগীকে দেখে বিকেলে নিউমার্কেটে কেনাকাটা করেন। পরে শিববাড়ী মোড়ে ইফতার শেষে ডাকবাংলো মোড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ঘিরে ফেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে একটি শোরুমে ঢোকার চেষ্টা করেন তিনি। হামলাকারীরা প্রথমে তাঁর পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি দোকানের ভেতরে ঢুকলে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা সেখানে প্রবেশ করে গলা ও পিঠে গুলি করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা মহিউদ্দীন শেখ দাবি করেন, শ্রমিকদের মধ্যে মাসুম বিল্লাহর জনপ্রিয়তা ছিল এবং তিনি আবারও নেতৃত্বে আসার চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।
খুলনা মহানগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গুলি চালানো গ্রুপে আটজন সদস্য ছিল এবং দুজনকে মূল হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হত্যার পর পালানোর সময় অশোক ঘোষকে বিদেশি রিভলবারসহ আটক করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, হামলায় অংশ নেওয়া সাত থেকে আটজনের নাম–পরিচয় পাওয়া গেছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার হত্যার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে মাসুম বিল্লাহর দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলালসহ বিএনপির জেলা ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে। তিনি আগে দুটি মামলার আসামি ছিলেন এবং র্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর বড় ভাই, নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল ২০২০ সালে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।
সিএ/এমই


