নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকায় রোজা শুরুর পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও হাঁসের ডিমের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতিটি হাঁসের ডিমের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে যেখানে একটি ডিম ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে এখন আকারভেদে ৮ থেকে ১০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। এতে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও খামারিরা আর্থিক চাপে পড়েছেন।
মঙ্গলবার ( ৫ ডিসেম্বর) সকালে সিংড়া উপজেলা সদরের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, হাঁসের ডিমের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। বাজারে ছোট ডিম ৮ থেকে ৯ টাকা এবং বড় ডিম ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজা শুরুর আগ পর্যন্ত একই ডিম ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি হিসাবে চলনবিল এলাকায় বড় আকারের হাঁসের খামার রয়েছে ৪৫১টি। এছাড়া প্রায় প্রতিটি গ্রামীণ বসতবাড়িতেই ছোট পরিসরে হাঁস পালন করা হয়। সব মিলিয়ে উপজেলায় আড়াই লাখের বেশি হাঁস রয়েছে। উৎপাদিত ডিমের প্রধান পাইকারি বাজার বসে উপজেলা সদরে। অনেক সময় ব্যবসায়ীরা সরাসরি খামার থেকে ডিম কিনে দেশের বিভিন্ন আড়তে পাঠান।
ডাহিয়া গ্রামের খামারি মকছেদ আলী বলেন, ‘হাঁসের খাওয়ার খরচ, ওষুধপত্র ও পাটের (কর্মী) খরচ অনেক বাড়ি গিছে। একন একটা ডিম উৎপাদন করতে খরচ হয় প্রায় ১২ টেকা। অথচ ডিম বিক্রি করচি ৮ থেকে ১০ টেকা করি। এভাবি চললে খামার বন্ধ করি দিতে হবি।’
ডিমের আড়তদার আবদুল ওহাব বলেন, রোজার সময় চাহিদা কম থাকায় দাম কমেছে। উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ডিমের ন্যূনতম দাম ১২ থেকে ১৫ টাকা হওয়া উচিত। তবে ছোট ডিম ৮ থেকে ৯ টাকা এবং বড় ডিম ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাঁর ধারণা, রোজার পর দাম আবার বাড়তে পারে।
ঢাকা থেকে আসা পাইকার মওদুদ মওলা বলেন, দাম কম হলেও বেচাকেনা তেমন জমছে না। রোজার কারণে মানুষ হয়তো কম খাচ্ছেন। তবে এখান থেকে ডিম কিনে ঢাকায় বিক্রি করতে দামে বড় কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাশরিফুল ইসলাম বলেন, পোলট্রি ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় হাঁসের ডিমের চাহিদা কিছুটা কমেছে। বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে। তবে পরিস্থিতি সাময়িক বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং দ্রুতই খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
সিএ/এমই


