মানবশিশুর জন্মের সময় মস্তিষ্কের ওজন থাকে প্রায় ৩৫০ গ্রাম। মাত্র দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ কেজিতে, আর ছয় বছরে পৌঁছে যায় পূর্ণবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের প্রায় ৯০ শতাংশ আকারে। এত দ্রুত পরিবর্তনের পেছনে কাজ করে নিউরোপ্লাস্টিসিটি—মস্তিষ্কের নিজেকে বদলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা।
জন্মের সময় শিশুর মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬ থেকে ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকলেও তাদের পারস্পরিক সংযোগ খুব সীমিত। জন্মের পর শুরু হয় সিন্যাপটোজেনেসিস—নিউরনের মধ্যে সংযোগ তৈরির দ্রুত প্রক্রিয়া। প্রথম দুই-তিন বছরে প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার নতুন সিন্যাপস তৈরি হয়। তবে ২ থেকে ১০ বছর বয়সের মধ্যে সিন্যাপটিক প্রুনিং শুরু হয়, যেখানে ব্যবহার না হওয়া সংযোগগুলো ছেঁটে ফেলা হয়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণা বলছে, শিশুর অভিজ্ঞতাই নির্ধারণ করে কোন সংযোগ শক্তিশালী হবে।
মা-বাবার সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা, স্পর্শ ও সাড়া দেওয়া—এসব অভিজ্ঞতা শিশুর মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করে। জন্ম থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত প্রথম এক হাজার দিনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ধরা হয়। এ সময়ে মস্তিষ্কের প্রায় ৮০ শতাংশ বিকাশ ঘটে। প্রথম বছরে ব্রেন স্টেম ও লিম্বিক সিস্টেম বিকশিত হয়, আর ২-৩ বছরে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের বিকাশ শুরু হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুর সঙ্গে দিনে অন্তত দুই হাজার শব্দ বলা হয়, তাদের ভাষাগত দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়। একাধিক ভাষা শেখালে কগনিটিভ রিজার্ভ বাড়ে। ১৬ মাস বয়সে ইনহিবিটরি কন্ট্রোল দ্রুত বিকশিত হয়, যা ভাষা শেখায় সহায়ক।
খেলাধুলা মস্তিষ্কের ব্যায়াম হিসেবে কাজ করে। লুকোচুরি আবেগ নিয়ন্ত্রণ শেখায়, ব্লক দিয়ে কিছু বানানো কল্পনাশক্তি বাড়ায়। ফ্রি প্লে সবচেয়ে উপকারী হলেও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মস্তিষ্কের হোয়াইট ম্যাটারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ বা টক্সিক স্ট্রেস শিশুর মস্তিষ্কের সংযোগ দুর্বল করে। কর্টিসল হরমোনের আধিক্যে স্মৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল সংকুচিত হতে পারে। তবে স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক এই প্রভাব কমাতে সহায়ক। হার্ভার্ডের সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড জানায়, জিন প্রাথমিক নকশা দেয়, আর অভিজ্ঞতা সেই নকশায় রং ফোটায়।
সিএ/এমআর


