সুষম খাদ্য শরীরের সুস্থতার অন্যতম শর্ত। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার রাখলে কিডনিসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সুরক্ষিত থাকে। এসব খাবার শুধু পুষ্টিই জোগায় না, দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকিও কমাতে সহায়তা করে।
শরীরে অক্সিডেশন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা শক্তি উৎপাদনের সময় বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। এ সময় ফ্রি রেডিকেলস বা মুক্ত পরমাণু তৈরি হয়, যা প্রোটিন, ডিএনএ ও কোষের ক্ষতি করতে পারে। ধারণা করা হয়, বার্ধক্য, ক্যান্সার, হৃদরোগ ও কিডনি রোগের সঙ্গে এদের সম্পর্ক রয়েছে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার ফ্রি রেডিকেলসের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। ক্যাপসিকামে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, বি৬, ফলিক এসিড, ফাইবার ও লাইকোপিন, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। বাঁধাকপিতে ভিটামিন কে, সি, বি৬ ও ফলিক এসিডের পাশাপাশি উচ্চমাত্রার ফাইবার রয়েছে, যা হৃদরোগ ও কিডনি সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
ফুলকপি শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান দূর করতে সহায়ক। তবে যাদের হাইপোথাইরয়েডিজম রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রসুন কিডনির প্রদাহ কমাতে এবং রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
পেঁয়াজে থাকা ফ্লাভনয়েড রক্তনালীতে চর্বি জমা প্রতিরোধ করে এবং কিডনি-সম্পর্কিত উচ্চরক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত আপেল খাওয়ার অভ্যাস কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। লাল আঙুরে থাকা ফ্লাভনয়েড রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে।
ডিমের সাদা অংশ বিশুদ্ধ প্রোটিনের উৎস, যা কিডনি রোগীদের জন্য উপকারী। মাছ নিরাপদ প্রোটিনের পাশাপাশি ওমেগা-৩ সরবরাহ করে, যা হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির জন্য সহায়ক। অলিভ ওয়েলে থাকা পলিফেনল শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিরোধই উত্তম চিকিৎসা। সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে অনেক রোগের ঝুঁকি সহজেই কমানো সম্ভব।
সিএ/এমআর


