ইরানে ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ওই অঞ্চলের গন্তব্যগুলোতে সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও যাত্রীদের খোঁজ নিতে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা)।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মন্ত্রী টার্মিনালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, ‘বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীরা যাতে কোনো দুশ্চিন্তা না করেন, সে জন্য সেখানে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। যাত্রীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের লাগেজ ফেরত পেতে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বিমানবন্দরে গিয়েছেন এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ, আবুধাবি, দুবাই, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গন্তব্যে তাদের সব ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এসব গন্তব্যের যাত্রীদের বিমানের সঙ্গে আগাম যোগাযোগ না করে সরাসরি বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ইরানে ইসরায়েলের হামলার পর বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই), কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সিদ্ধান্তের কারণে নির্ধারিত কয়েকটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য যাত্রীদের খুদে বার্তা (এসএমএস), ই-মেইল ও কল সেন্টারের মাধ্যমে আগেভাগেই জানাতে হবে। পাশাপাশি বিমানবন্দরে এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় পুনর্নির্ধারিত ফ্লাইটের বিষয়ে স্পষ্ট ও সমন্বিত তথ্য প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো যায়। একই সঙ্গে উল্লিখিত রুটে ভ্রমণের পরিকল্পনায় থাকা যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনস বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
সিএ/এমই


