নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) গ্রেপ্তার হয়েছেন। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি শর্ষেখেত থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরীর মা ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করেন। মামলায় নাম থাকা আসামিরা হলেন নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা, এবাদুল্লাহ, হযরত আলী, মো. গাফফার, আহাম্মদ আলী দেওয়ান, ইমরান দেওয়ান, ইছহাক ওরফে ইছা, আবু তাহের ও মো. আইয়ুব। আহাম্মদ আলী দেওয়ান মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। তাঁকে সহ পাঁচজনকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি চারজনের মধ্যে ইমরান দেওয়ান, এবাদুল্লাহ, আইয়ুব ও গাফফার পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ ওঠার পর আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরার সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবারটি আহাম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে গেলে তারা কোনো প্রতিকার পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, অভিযোগ করায় নূরাসহ সংশ্লিষ্টরা ক্ষুব্ধ হন। বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর পরদিন সকালে শর্ষেখেতে তাঁর লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত না করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল এবং পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার চাপ দেওয়া হয়। বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলেও তাঁদের অভিযোগ।
সিএ/এমই


