রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অমর একুশে বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর রূপ নেয় এক রঙিন উৎসবে। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) সকালে ছোটদের উপস্থিতি, পাপেট শো এবং রঙিন বইয়ের সমাহারে মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। রমজানের আমেজ ও রোদের তেজ সত্ত্বেও শিশুদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি।
ছয় বছরের অরিত্র বইয়ের স্টলে দাঁড়িয়ে দাদার হাত ধরে একের পর এক বই দেখছিল। ‘দাদা, দাদা, এই বইটা কিনে দাও। আজকে আমি সুপারম্যান শিখব। এইটা কিনে দাও। দাদা, এই ছবিটায় রং করব’—বই হাতে নিয়ে এমন বায়না ধরতে দেখা যায় তাকে। পাশে দাঁড়িয়ে দাদা অমল হাওলাদার বলেন, ‘আমার নাতি এবারই স্কুলে ভর্তি হয়েছে। প্রথমবার বইমেলায় এনেছি। বায়নার শেষ নেই।’
ফেব্রুয়ারির শেষ প্রান্তে শুরু হওয়া এবারের বইমেলায় সময়সূচিতে এসেছে পরিবর্তন। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলা চলবে। শুক্র, শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে শিশুপ্রহর থাকছে বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত। এরপর রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে।
প্রথম শিশুপ্রহরের মূল আকর্ষণ ছিল পাপেট শো। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহরিয়া মায়ের হাত ধরে স্টল ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ পুতুলনাচের মঞ্চের সামনে থেমে যায়। অনুষ্ঠান শুরুর ডাক ভেসে আসতেই শিশুরা দৌড়ে গিয়ে পাটি বিছানো মেঝেতে বসে পড়ে। পেছনে দাঁড়িয়ে থাকেন অভিভাবকেরা।
মঞ্চে হাজির হয় দুই পুতুল বন্ধু অপু ও দিপু। গল্পের ফাঁকে তারা দেয় শিক্ষণীয় বার্তা। তাদের বিদায়ের পর গানের সুরে লেজ নাড়াতে নাড়াতে মঞ্চে আসে বিশাল এক বাঘ পুতুল। শিশুদের উচ্ছ্বাসে চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে। নাচতে নাচতে বাঘ নেমে আসে শিশুদের মাঝে, হাত বাড়িয়ে তাকে ছুঁতে চায় তারা।
বাবার কোলে বসা তাসনিম পাপেট শো দেখে আনন্দে হাততালি দিচ্ছিল। অনুষ্ঠান শেষে তার সরল প্রশ্ন, ‘বাঘটা আবার আসবে?’ বাবা হেসে বলেন, ‘আবার আসবে, আমরা আবার দেখব।’
শিশুপ্রহর ঘিরে মেলার ভেতরে তৈরি হয় আলাদা এক আবহ। ছোটদের বই, আঁকার খাতা, ছড়া ও গল্পের বইয়ের স্টলগুলোতে ছিল ভিড়। আয়োজনকারীরা জানান, প্রতিটি শিশুপ্রহরে নতুন গল্প, গান ও অংশগ্রহণমূলক আয়োজন থাকবে।
কাকতাড়ুয়া পাপেট শোর প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক বলেন, ‘শিশুরা গল্প খুব সহজে গ্রহণ করে। আমরা পাপেট শোর মাধ্যমে তাদের আনন্দ দিই। সেই আনন্দের ভেতরেই বার্তা রাখি। এই মাধ্যম দিয়ে সমাজের কুসংস্কার দূর করার চেষ্টা করি।’
সিএ/এমই


