মানুষ জন্মগতভাবেই আবেগপ্রবণ। এই আবেগ থেকেই পরিবার, প্রেমের সম্পর্কের পাশাপাশি বন্ধুত্ব ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বন্ধুত্ব মানুষকে নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও ভালোবাসার অনুভূতি দেয়। এ ধরনের সম্পর্কে বয়স, সামাজিক অবস্থান কিংবা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, এসব সম্পর্ক টিকে থাকে ইন্টারডিপেনডেন্স বা পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর।
ইন্টারডিপেনডেন্স এমন একটি সম্পর্কের ধরন, যেখানে দুজন মানুষ একসঙ্গে থাকলেও কেউ নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে না। এই সম্পর্কে পারস্পরিক আবেগের মূল্যায়ন যেমন থাকে, তেমনি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পরিচয়ও অটুট থাকে। এখানে দুর্বলতা লুকানোর প্রয়োজন হয় না, বরং খোলামেলা কথা বলার ও প্রয়োজনে একে অপরের ওপর নির্ভর করার সুযোগ থাকে।
অনেক সময় মানুষ পারস্পরিক নির্ভরতাকে কোডিপেনডেন্সের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে। কোডিপেনডেন্স এমন এক অবস্থা, যেখানে এক বা উভয় সঙ্গীর আত্মসম্মান, মূল্যবোধ ও অস্তিত্ব অন্যজনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এতে ব্যক্তিগত সীমারেখা ভেঙে যায়, নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বাড়ে এবং সম্পর্ক নড়বড়ে হলে অপরাধবোধ ও লজ্জা জন্ম নেয়। এই ধরনের সম্পর্ক ব্যক্তিগত বিকাশের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এর বিপরীতে ইন্টারডিপেনডেন্স সম্পর্ক মানুষকে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেয়। এখানে অন্ধ নির্ভরতা নেই, বরং দুজন মানুষ বুঝে নেয় কখন পাশে দাঁড়াতে হবে আর কখন একা থাকার সুযোগ দিতে হবে। এই সম্পর্ক একদিকে নিরাপত্তা দেয়, অন্যদিকে ব্যক্তিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করে।
ইন্টারডিপেনডেন্ট সম্পর্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট ব্যক্তিগত সীমারেখা, পরিষ্কার ও খোলামেলা যোগাযোগ, পরস্পরকে মন দিয়ে শোনার মানসিকতা, নিজের আচরণের দায় নেওয়ার সক্ষমতা এবং দুর্বলতা প্রকাশের নিরাপদ পরিবেশ। পাশাপাশি নিজের আগ্রহ, শখ ও লক্ষ্য ধরে রাখাও এই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, যখন সম্পর্কের উভয় পক্ষ নিজেদের মূল্যবান মনে করে, তখন সেই সম্পর্কই নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়। পারস্পরিক নির্ভরতা তাই সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
সিএ/এমআর


