কোরআনুল কারিমে কিয়ামত ও পরকালের নানা দৃশ্য বিভিন্ন আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। সুরা বনি ইসরাঈলের ৫২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পুনরুত্থান ও হাশরের দিনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, যেদিন তিনি মানুষকে আহ্বান করবেন, সেদিন সবাই তাঁর প্রশংসার সঙ্গে ডাকে সাড়া দেবে এবং মনে করবে তারা দুনিয়াতে খুব অল্প সময় অবস্থান করেছিল।
এই আহ্বানের অর্থ কবর থেকে পুনরায় জীবিত করে আল্লাহর সামনে উপস্থিত করা। সেদিন মানুষ স্বেচ্ছায় তাঁর আদেশ পালন করবে এবং দুনিয়ার দীর্ঘ জীবনকে অতি সামান্য বলে মনে হবে। কোরআনের অন্যান্য আয়াতেও একই বিষয় পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যেখানে দুনিয়ার সময়কে এক সন্ধ্যা বা এক সকালের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
শিংগায় ফুঁক দেওয়ার প্রসঙ্গেও বিভিন্ন আয়াতে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে, প্রথম ফুঁকে সমস্ত সৃষ্টির মৃত্যু হবে এবং পরবর্তী ফুঁকে সবাই হিসাবের জন্য একত্রিত হবে। তখন মানুষ বিস্মিত হয়ে বলবে, কে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে জাগিয়ে তুলল।
তাফসিরকারদের মতে, শিংগায় ফুঁকের মধ্যবর্তী সময়ে মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকবে এবং কোনো শাস্তি ভোগ করবে না। দ্বিতীয় ফুঁকে উঠে মানুষ উপলব্ধি করবে যে দুনিয়ার জীবন ছিল অতি ক্ষণস্থায়ী।
এই আয়াতগুলো মানুষের জন্য একটি গভীর শিক্ষা বহন করে। দুনিয়ার জীবন যত দীর্ঘই মনে হোক না কেন, পরকালের বাস্তবতায় তা অল্প সময়ের বেশি কিছু নয়। তাই আখিরাতের প্রস্তুতির দিকেই মানুষের মনোযোগী হওয়া উচিত।
সিএ/এমআর


