চীনা একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভিডিও তৈরির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে হলিউডে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বখ্যাত অভিনেতা ও রাজনীতিকদের অবাস্তব কিন্তু অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কর্মকাণ্ড। এসব ভিডিও কোনো সিনেমা বা বিজ্ঞাপনের অংশ নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি।
টিকটক-এর মালিকানাধীন চীনা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স তাদের নতুন এআই টুল ‘সিড্যান্স ২.০’ বাজারে এনেছে। এই প্রযুক্তি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাস্তব মানুষের মতো মুখভঙ্গি, কণ্ঠস্বর ও চলাফেরা অনুকরণ করে ভিডিও তৈরি করতে সক্ষম। ফলে সাধারণ দর্শকের পক্ষে এসব ভিডিও আসল না নকল তা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই এআই টুলের ক্ষমতা সামনে আসার পর হলিউডের বড় প্রযোজনা সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ডিজনি ও প্যারামাউন্টসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান অভিযোগ তুলেছে, তাদের সিনেমার চরিত্র ও কপিরাইট করা উপাদান অনুমতি ছাড়া এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছে। এ নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এক ধরনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, যা অনেকটা নতুন যুগের স্পেস রেসের মতো। হলিউডের প্রযোজকদের আশঙ্কা, এই প্রযুক্তির অপব্যবহার হলে বিনোদন শিল্পের ভবিষ্যৎ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরির ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে। একটি ছবি বা অডিও ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যেই কারো কণ্ঠ বা চেহারা নকল করা সম্ভব হওয়ায় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
চীন সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে তাদের জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেখছে। তবে বিতর্কের মুখে বাইটড্যান্স জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে বিশেষ চিহ্ন যুক্ত করা হবে এবং মেধাস্বত্ব রক্ষায় আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
সিএ/এমআর


