ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের বাঁশহাটি গ্রামের বাসিন্দা সুশীলা রবি দাস (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছেন। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নান্দাইল-আঠারবাড়ি সড়কের পাশে শুকনো পাতা কুড়াতে কুড়াতে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বেক বেলায় (সব সময়) তো কাড-মাড আইয়ে। যারার দরহার নাই, তারাও পায়। আমরা টেহা দিতাম পারছি না। এ ছাড়া তদবিরের লোক না থাহায় পাইছি না। আমরার সামনে অনেকেই পায়, কিন্তু আমরার কপালে নাই।’
বাঁশহাটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একপাশে নিজস্ব সামান্য জমি এবং বাকিটা সরকারি জায়গায় ছোট ছোট ঘর তুলে বসবাস করছেন কয়েকটি পরিবার। সুশীলাদের পাড়ায় অন্তত চারটি পরিবার একইভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও দিনমজুরের কাজ করেন। তারপরও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় এক বেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়।
কথোপকথনের একপর্যায়ে সুশীলা রবিদাস সন্দেহভরা কণ্ঠে প্রশ্ন করেন, ‘এইবার হুনছি হেমেলি কাড (ফ্যামিলি কার্ড) দিবো। এই কথায় তো ভোট দিতাম গেছি। অহন কি আমরার কপালে এই হেমিলি কাড জুটবো।’
তিনি জানান, ভোটের আগে তাদের এলাকায় প্রচার করা হয়েছিল— নির্দিষ্ট দলে ভোট দিলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সেই আশাতেই তারা ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। বর্তমানে কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে শুনেছেন।
স্থানীয় দরিদ্র নারীদের প্রত্যাশা, এবার হয়তো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা করা হবে। অতীতে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নানা কারণে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি তাদের। নতুন করে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী হলেও শঙ্কাও কাটেনি। এখন তাদের প্রশ্ন— বাস্তবে কি মিলবে সেই প্রতিশ্রুত কার্ড, নাকি আগের মতোই থেকে যাবে অপেক্ষা।
সিএ/এএ


