দেশে অনেক শিশু রক্তশূন্যতায় ভুগছে, যা মা–বাবার জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। জন্মগত ত্রুটি থেকে শুরু করে পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব—বিভিন্ন কারণে শিশুর রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে।
এনটিভির স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলাম জানান, শিশুদের রক্তশূন্যতার সবচেয়ে সাধারণ কারণ তিনটি। প্রথমটি ডেফিসিয়েন্সি এনিমিয়া, যার মধ্যে আয়রন ডেফিসিয়েন্সি এনিমিয়া সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। হিমোগ্লোবিনের হিম অংশ আয়রনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আয়রনের ঘাটতিতে এই সমস্যা তৈরি হয়।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ ইনহেরিটেড হিমোলাইটিক এনিমিয়া। এতে হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশের জেনেটিক ত্রুটির কারণে রক্তশূন্যতা হয়। থ্যালাসেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়া সিনড্রোম এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয় সাধারণ কারণ হলো এনিমিয়া অব ক্রনিক ডিজিজ। দীর্ঘদিনের সংক্রমণ, প্রদাহ, টিউমার বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণে এই ধরনের রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
এ ছাড়া কিছু কমন নয়, তবে গুরুতর কারণও রয়েছে। এর মধ্যে এপ্লাস্টিক এনিমিয়া অন্যতম, যেখানে রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতা কমে যায়। ভিটামিন বি১২ ও ফলিক অ্যাসিডের অভাবে মেগালোব্লাস্টিক এনিমিয়া হতে পারে। আবার আরবিসির বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হলে ইমিউন হেমোলাইটিক এনিমিয়াও দেখা দেয়, যা নবজাতক ও বড়দের ক্ষেত্রেও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এনিমিয়া নিজে কোনো রোগ নয়, বরং অন্য রোগের একটি লক্ষণ। তাই সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
সিএ/এমআর


