চলচ্চিত্র ও অভিনয়ের জগতে দীর্ঘ সময় ধরে কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত একজন শিল্পী বলেছেন, “শিল্পীর জীবনে কোনো অবসর হয় না, বিদায়ও হয় না।” জীবনে অনেক প্রাপ্তি থাকলেও মানুষের ভালোবাসা সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে তিনি মনে করেন।
তিনি একটি ঘটনা শেয়ার করেন, “গাড়িতে করে যাচ্ছি, দেখি একটা মেয়ে ফুল বিক্রি করছে। সে বলল, আপা নেন, নেন, আপনার কত সিনেমা দেখছি। আমি বললাম, সিনেমা কীভাবে দেখলে? ও বলল, টেলিভিশনে। আপনার অভিনয় কত সুন্দর। আমি বললাম, মা, আমার কাছে তো এখন ভাংতি টাকা নাই, আরেক দিন নেব। ও বলল, না, না, আপনারে এই ফুল দিলাম, কোনো টাকা দিতে হবে না।”
আরেকটি স্মরণীয় ঘটনা তিনি উল্লেখ করেন কানাডার ক্যালগারিতে, “শিপে করে যাচ্ছি, সেখানে কয়েকজন বাঙালি নারী কাছে এসে চিৎকার করে জড়ায়ে ধরল, পায়ে হাত দিয়ে সালাম করল। আমি বললাম বাব্বা, কানাডার মানুষ পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে! খুব ভালো লাগল। মানুষের এই যে এত ভালোবাসা, এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে?”
এ বছর তিনি একুশে পদক অর্জন করেছেন। এই উপলক্ষ্যে তিনি বলেন, “জীবনে আমি যেমন দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছি, তেমনি প্রচুর পুরস্কার পেয়েছি, দেশি, বিদেশি। কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে একুশে পদক। এই পদক পেয়ে আমি যে কী খুশি, তা বলে বোঝাতে পারব না। সরকারকে আমি ধন্যবাদ জানাই। যেহেতু শ্রদ্ধেয় জহির ভাই (জহির রায়হান) আমাকে চলচ্চিত্র জগতে এনেছিলেন, তাই এটি ওনাকে উৎসর্গ করলাম।”
রাষ্ট্রীয় সম্মানের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাইলেও জানালেন, “এটা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না।” তবে প্রত্যাশা ছিল কি না—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, একটু তো মন চেয়েছিলই। মনে হতো, আমি কেন পাচ্ছি না, অনেকেই তো পাচ্ছেন। যাই হোক, এত দিন পাইনি, এখন পেলাম।”
সিএ/এসএ


