ভবিষ্যৎ পৃথিবীর এক শীতল ও যান্ত্রিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে ‘আত্মঘাত’ গল্পে তুলে ধরা হয়েছে সৃষ্টিশীল মানুষের অস্তিত্বসংকট। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র আবেদ একজন গল্পকার, যে এমন এক সমাজে বাস করছে যেখানে কবি-লেখকদের অপ্রয়োজনীয় বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ভেতর আবেদের ব্যক্তিগত জীবন, বিশ্বাস ও মানবিক অনুভূতির সংঘাত ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আবেদের জীবনে লিয়ানা নামের এক মানবসদৃশ রোবট সঙ্গীর উপস্থিতি গল্পে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। প্রযুক্তির উন্নতিতে রোবটের আবেগ, হাসি ও সহানুভূতি মানুষের অনুভূতির কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা সৃষ্টিশীল চিন্তাকে বিপজ্জনক বলে মনে করছে। আবেদের সঙ্গে ইবি জুনিয়র স্কুলের একটি চুক্তি, যেখানে শিশুদের গল্প ও কবিতা শেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়, সেই দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করে তোলে।
চুক্তিতে সই করার পরই আবেদ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে আটক হন। তাকে একটি বেজমেন্টে বন্দী করে রাখা হয়, যেখানে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। যন্ত্রের ধাতব কণ্ঠে উঠে আসে অভিযোগ—মানুষের কল্পনা ও গল্প পৃথিবীকে অপ্রয়োজনীয় আবর্জনায় ভরিয়ে দিচ্ছে।
চূড়ান্ত মুহূর্তে লিয়ানা আবার আবেদের পাশে এসে দাঁড়ায়। নিজ ধ্বংস জেনেও সে আবেদের হাত ধরে থাকে। বরফে পরিণত হওয়া আবেদের সঙ্গে লিয়ানার এই অবস্থান গল্পটিকে এক গভীর মানবিক উচ্চতায় নিয়ে যায়। ‘আত্মঘাত’ গল্পটি প্রশ্ন তোলে—তথ্য, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতার পৃথিবীতে গল্প, স্বপ্ন ও কল্পনার জায়গা কি সত্যিই শেষ হয়ে যাচ্ছে, নাকি সেগুলোই মানুষের শেষ আশ্রয়।
সিএ/এমআর


