অমর একুশে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ঈদের পর আয়োজনের দাবিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়েছে প্রকাশকদের সংগঠন প্রকাশক ঐক্য। একই সঙ্গে দেশের প্রকাশনাশিল্পকে রুগ্ণ আখ্যা দিয়ে তা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
তারেক রহমান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এসব দাবি জানানো হয়। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) চিঠিটির অনুলিপি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে প্রকাশকরা জানান, তাঁরা মেলা বর্জনের পক্ষে নন; বরং একটি সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেলা চান। তাঁদের মতে, পবিত্র রমজান ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলাটি ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হলে পাঠকদের হাতে সময় ও অর্থ—দুই-ই থাকবে। কিন্তু তাঁদের এই দাবি উপেক্ষা করে প্রকাশকদের একটি সম্ভাব্য ব্যর্থ আয়োজনের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়, দেশের সামনের সারির প্রায় সব প্রকাশকসহ তিন শতাধিক মূলধারার প্রকাশক বর্তমান নির্ধারিত সময়ে মেলায় অংশ নিতে অপারগ। এমন পরিস্থিতিতে আয়োজিত মেলা পাঠকশূন্য ও প্রাণহীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারেক রহমানের নির্দেশনা কামনা করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সামনেই আপনি সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। একটি নতুন সরকারের যাত্রা শুরুতে আমরা চাই না একুশের চেতনার এই মেলাটি কোনোভাবে ব্যর্থ বা বিতর্কিত হোক। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সুচিন্তিত একটি নির্দেশই পারে ধ্বংসের হাত থেকে এই শিল্পকে বাঁচাতে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশক সমাজের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে অভিনন্দনও জানানো হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আপনার এই একটি সিদ্ধান্ত কেবল হাজারো প্রকাশককে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচাবে না, বরং প্রমাণ করবে যে নতুন সরকার জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও জনমতের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল।’
প্রকাশকদের দাবি, প্রায় দেড় বছর ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রকাশনাশিল্প গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস দেশের ছাপাখানাগুলো নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় সৃজনশীল বইয়ের উৎপাদন কার্যত বন্ধ ছিল। কাগজের উচ্চমূল্য ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধিতে প্রকাশকেরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এমন এক বাস্তবতায় বিদায়ী প্রশাসন ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মাহে রমজানে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ আয়োজনের বিষয়ে অনড় রয়েছে। রমজান মাসে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কমে যাবে। অথচ শিক্ষার্থীরাই বইমেলার প্রধান প্রাণশক্তি। দেশের ৯০ শতাংশ প্রকাশকের মতে, এই সময়ে মেলায় অংশ নেওয়া তাঁদের জন্য ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যা’র শামিল। ফলে এই আয়োজন কার স্বার্থে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
দেশের সর্বস্তরের প্রকাশকদের পক্ষে ১৪ জন প্রকাশকের নাম চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মেছবাহউদ্দীন আহমদ (আহমদ পাবলিশিং হাউজ), এ কে নাসির আহমেদ (কাকলী), মাজহারুল ইসলাম (অন্যপ্রকাশ), মনিরুল হক (অনন্যা), সৈয়দ জাকির হোসাইন (অ্যাডর্ন পাবলিকেশন), জসীম উদ্দিন (কথাপ্রকাশ), মোহামম্মদ নাজিম উদ্দিন (বাতিঘর প্রকাশনী), মো. মোবারক হোসেন (পাণ্ডুলিপি সমন্বয়ক, প্রথমা প্রকাশন), মো. গফুর হোসেন (রিদম), ইকবাল হোসেন সানু (লাবনী), দীপঙ্কর দাশ (বাতিঘর), মো. জহির দীপ্তি (ইতি প্রকাশন, সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬), মাহরুখ মহিউদ্দীন (ইউপিএল: সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬) এবং মাহাবুর রাহমান (আদর্শ; সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬)।
সিএ/এমই


