পর্দায় যাঁর উপস্থিতি মানেই হাসির রোল, সেই বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব এখন তিহার জেলে। ৫ কোটি রুপি ঋণ, যা সুদে গুণিত হয়ে ৯ কোটিতে পৌঁছেছে, এবং বারবার চেক বাউন্স হওয়ার কারণে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো দয়া দেখায়নি এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আইন সবার জন্য সমান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজপাল যাদবের অর্থসংক্রান্ত বিপত্তি শুরু হয় প্রায় ১৬ বছর আগে। ২০১০ সালে নিজের পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য তিনি দিল্লির মুরলি প্রজেক্টস নামের সংস্থা থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নেন। ২০১২ সালে ছবিটি মুক্তি পেলেও বক্স অফিসে ব্যর্থ হয় এবং এরপর থেকে ঋণ পরিশোধের সমস্যা শুরু হয়।
তদন্তে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে রাজপাল অন্তত ২০ বার আদালতের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন যে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হন। ২০১৮ সালে দিল্লির একটি আদালত চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল ও তাঁর স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের সাজা দেন। ২০২৪ সালে হাইকোর্ট সাময়িকভাবে তাঁর সাজা স্থগিত করে সমঝোতার সুযোগ দেন।
তবে গত বছরের ডিসেম্বরে ৪০ লাখ এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২ কোটি রুপি পরিশোধের কথা থাকলেও তা দেননি। গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ক্ষমা প্রার্থনা করে আরও এক সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন রাজপাল। কিন্তু বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মা তাঁর আবেদন খারিজ করে দেন এবং বলেন, “ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত কেউ হলেও আদালত কোনো বিশেষ নিয়ম তৈরি করতে পারে না। আইন অমান্য করলে সাজা পেতেই হবে।” আদালতের মতে, রাজপালের এই আচরণ বিচারব্যবস্থার প্রতি ‘অসম্মান’ প্রদর্শনের শামিল।
গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা নাগাদ রাজপাল তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন। জেল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তিনি একজন সাধারণ কয়েদি হিসেবে ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করবেন। রাজপালের আইনজীবী জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণের পর নতুনভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে ঋণের অর্থ পরিশোধ করে তিনি দ্রুত মুক্তি পান।
হাঙ্গামা, ভুলভুলাইয়া ও চুপ চুপ কের মতো কালজয়ী সিনেমার এই অভিনেতার কারাগারে অবস্থান নিয়ে ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বলিউডের অন্যান্য তারকা তাঁর পাশে দাঁড়াবেন কি না, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
সূত্র: দ্য হিন্দু
সিএ/এসএ


