সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীর ও মনে নানা সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই ঘুমের সমস্যার জন্য মানসিক চাপ, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ কিংবা মোবাইল স্ক্রিনকে দায়ী করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিও ঘুমের সমস্যার বড় কারণ হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবে ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ও নিউরোট্রান্সমিটার ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এর ফলে অনিদ্রা, ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা সারাদিন ক্লান্তি অনুভূত হয়।
ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের জন্য নয়, ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক চক্র ঠিক রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে রাতে ঘুম কম হয়, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় এবং দিনে অতিরিক্ত ঝিমুনি আসে। এমনকি স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। প্রতিদিন কিছু সময় রোদে থাকা এবং ডিম, সামন মাছ ও ফোর্টিফাইড দুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভিটামিন বি-৬, বি-১২ ও ফোলেট ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন তৈরিতে সহায়তা করে। এদের ঘাটতিতে ঘুম কমে যায়, স্বপ্ন বেশি দেখা যায় এবং দিনের বেলায় তন্দ্রা আসে। ডাল, শাকসবজি, ডিম, মাছ ও গোটা শস্য এসব ভিটামিনের ভালো উৎস। নিরামিষভোজীদের ক্ষেত্রে বি-১২ সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে।
ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ কমিয়ে ঘুমের মান উন্নত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণকারীদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা তুলনামূলক কম। কমলালেবু ছাড়াও মরিচ, স্ট্রবেরি, কিউই ও ব্রকলি এর ভালো উৎস।
ভিটামিন ই মস্তিষ্কের কোষ রক্ষা করে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ঘাটতিতে স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বাদাম, বীজ ও জলপাই তেলে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।
এছাড়া ম্যাগনেসিয়াম ভিটামিন না হলেও ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং পেশিকে শিথিল রাখে। এর অভাবে অনিদ্রা, উদ্বেগ ও রাতে পেশিতে খিঁচুনি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম মেনে ঘুমানোর চেষ্টা করেও যদি ঘুমের সমস্যা থেকে যায়, তবে ভিটামিন ডি, বি-১২, ফোলেট ও ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। ঘাটতি পূরণ হলে ঘুমের সমস্যাও অনেকটাই কমে আসতে পারে।
সিএ/এমআর


