বিশ্বকাপের ইতিহাসে বড় রেকর্ডগুলোর লড়াই প্রায়ই নতুন মোড় নেয়। কখনো এক তারকা এগিয়ে যান, আবার অল্প সময়ের মধ্যেই অন্য কেউ সেই অর্জনের পাশে নিজের নাম লিখিয়ে দেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসিকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে তেমনই একটি মুহূর্ত।
সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এগিয়ে যান ফ্রান্সের তারকা এমবাপ্পে। সেই পারফরম্যান্সের পর কিছু সময়ের জন্য তিনি গোলসংখ্যায় লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে যান।
তবে সেই ব্যবধান খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করে মেসিও পৌঁছে যান ১৪ গোলের মাইলফলকে। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় আবারও সমতায় ফিরে আসে লড়াই।
এই গোলের পর মেসি, এমবাপ্পে এবং জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার সমান ১৪ গোল নিয়ে যৌথভাবে অবস্থান নেন তালিকার তৃতীয় স্থানে। তাদের ওপরে অবস্থান করছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর ১৫ গোল এবং জার্মান ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোল।
তবে মেসির গোল পাওয়ার গল্পটাও ছিল নাটকীয়তায় ভরা। ম্যাচের শুরুতেই দুই দলই বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে কোনো গোলই গণনা হয়নি। ষষ্ঠ মিনিটে মেসির একটি গোল বাতিল হয়, এরপর অল্প সময়ের মধ্যে আলজেরিয়ার ফরোয়ার্ড ফারেস চাইবির গোলও বাতিল করা হয়।
তবে ১৭ মিনিটে আর অপেক্ষা করতে হয়নি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান চেষ্টা করলেও বল থামাতে পারেননি।
এই ম্যাচে মাঠে নেমেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচ খেলা ইতিহাসের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান তিনি। এর আগে এই অর্জন ছিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও কুয়েতের সাবেক ফরোয়ার্ড বাদের আল–মুতওয়ার।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আরও কিছু সুযোগ তৈরি হলেও গোলের ব্যবধান বাড়েনি। বিরতির আগে আলজেরিয়াও সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন।
বিশ্বকাপের শুরুতেই ব্যক্তিগত রেকর্ডের দৌড়ে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছেন মেসি ও এমবাপ্পে। বড় মঞ্চে এই প্রতিযোগিতা সামনে আরও জমে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সিএ/এমই


