বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক তারকা আছেন, যারা ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ সাফল্য পেলেও জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। বড় টুর্নামেন্টের চাপ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বাস্তবতা অনেক সময় ক্লাবের সাফল্যকে জাতীয় দলে পুনরাবৃত্তি করতে দেয় না।
বিশ্ব ফুটবলের দুই বড় নাম লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এমন আলোচনা ছিল। ক্লাব পর্যায়ে একের পর এক শিরোপা ও ব্যক্তিগত অর্জন এলেও বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছিল তাদের জন্য।
মেসি ২০০৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত একাধিক বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও শিরোপা স্পর্শ করতে পারেননি। ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুললেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি অধরাই থেকে যায়। অন্যদিকে রোনালদো দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পর্তুগালকে বিশ্বকাপের শেষ ধাপে নিয়ে যেতে পারেননি, যদিও ক্লাব ফুটবলে তার অর্জনের তালিকা ছিল সমৃদ্ধ।
এই জায়গাতেই আলাদা করে আলোচনায় আসেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ক্লাব ফুটবলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিশ্বকাপের মতো বড় আসরেও শুরু থেকেই নিজের প্রভাব দেখিয়ে আসছেন ফরাসি তারকা।
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ বছর বয়সে চার গোল করে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই আসরের ফাইনালেও গোল করে নিজেকে বড় মঞ্চের খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে আরও বড় উপস্থিতি জানান দেন এমবাপ্পে। পুরো টুর্নামেন্টে আট গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স হিসেবে জায়গা করে নেয়।
২০২৬ বিশ্বকাপেও ইতিবাচক সূচনা করেছেন এই ফরোয়ার্ড। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে জাতীয় দলের ইতিহাসে গোলসংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের পরিসংখ্যানও আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
বিশ্বকাপে মাত্র তিনটি আসর খেলেই এমবাপ্পে এমন অবস্থানে পৌঁছেছেন, যেখানে সাধারণত অনেক কিংবদন্তির পৌঁছাতে সময় লেগেছে দীর্ঘ বছর। বড় ম্যাচে তার উপস্থিতি, গতিময়তা, সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা এবং ধারাবাহিকতা তাকে আলাদা করেছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়েই সমান প্রভাব রাখার ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ের অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের মঞ্চে তার পারফরম্যান্সই সেই আলোচনাকে আরও শক্তিশালী করছে।
সিএ/এমই


