বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে আজ মাঠে নামছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। টেক্সাসের হিউস্টনে গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ অভিষেক আসরে খেলতে আসা কুরাসাও। শক্তি, অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে ইউরোপীয় দলটিকেই পরিষ্কারভাবে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে দারুণ ছন্দে রয়েছে জুলিয়ান নাগেলসমানের দল। প্রস্তুতি ম্যাচে ফিনল্যান্ড ও স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় টুর্নামেন্টে এসেছে তারা। গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর থেকে কোনো ম্যাচে হার না মানা জার্মানির লক্ষ্য এবার শুরু থেকেই নিজেদের শক্তির প্রমাণ দেওয়া।
তবে সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাস জার্মানদের জন্য খুব সুখকর নয়। টানা দুটি আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হওয়ায় দলটির ওপর প্রত্যাশার পাশাপাশি চাপও রয়েছে। সেই কারণে এবার শিরোপা নিয়ে ভাবার আগে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।
অন্যদিকে, কুরাসাওয়ের জন্য এটি ইতিহাস গড়ার মঞ্চ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া দলটি নিজেদের যাত্রাকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে চায়। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও প্রস্তুতিতে ইতিবাচক কিছু বার্তা পেয়েছে তারা।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কোচ পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ সামলেও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আরুবাকে ৪–০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে কুরাসাও। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মরিয়া দলটি।
জার্মান শিবিরে বড় স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যারের প্রত্যাবর্তন। চোট কাটিয়ে তিনি দলে ফিরেছেন এবং শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনাও জোরালো। যদিও তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে কিছু আলোচনা রয়েছে।
কুরাসাও দলেও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে ফিরেছেন স্ট্রাইকার ইয়ুর্গেন লোকাদিয়া। তাহিথ চং, লিয়ান্দ্রো বাকুনা ও রিচেডলি বাজারকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের আশা করছে দলটি।
কাগজে-কলমে জার্মানি এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপে অঘটনের ইতিহাস নতুন নয়। তাই শক্তির পার্থক্য থাকলেও কুরাসাওকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছে না জার্মান শিবির। অন্যদিকে, অভিষেক বিশ্বকাপেই বড় কোনো চমক দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে কুরাসাও।
সিএ/এমই


