মরক্কোর বিপক্ষে ১–১ গোলের ড্র দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে ফলাফলের চেয়েও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশি হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইতালিয়ান এই কোচ জানান, শুরু থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারেনি তার দল এবং সেই চাপ পুরো ম্যাচজুড়ে প্রভাব ফেলেছে।
ম্যাচের ২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। গোল হজমের পর দল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে আক্রমণ ও মাঝমাঠের সমন্বয়ে ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। মরক্কোর উচ্চ প্রেসিংয়ের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত নিয়ন্ত্রণও দেখাতে পারেনি সেলেসাওরা।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় ব্রাজিল। গোলের পর কিছুটা ছন্দ ফিরে পেলেও পুরো ম্যাচের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন আনচেলত্তি।
ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমাদের শুরুটা কোনোভাবেই ভালো বলা যাবে না। দলের ভেতর একটা প্রচ্ছন্ন উদ্বেগ কাজ করছিল। আমরা বারবার পজিশন হারিয়েছি, ওয়ান-টু-ওয়ান ডুয়েলগুলোতেও পরাস্ত হয়েছি।
প্রথমার্ধের চেয়ে দ্বিতীয় হাফে কিছুটা উন্নতি হলেও তা যথেষ্ট ছিল না।’
আনচেলত্তির মতে, ম্যাচের শুরুতে স্নায়ুচাপ সামলাতে না পারার প্রভাব পড়েছে ফলাফলেও। তার বিশ্বাস, শুরুতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ফল ভিন্ন হতে পারত।
তবে প্রতিপক্ষ মরক্কোর কৃতিত্বও স্বীকার করেছেন ব্রাজিল কোচ। ড্রয়ের হতাশা থাকলেও এটিকে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন না তিনি।
আনচেলত্তি বলেন, ‘বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সব সময়ই স্নায়ুক্ষয়ী। প্রথম ম্যাচ খেলেই কেউ ট্রফি জিতে যায় না। ফলাফল একেবারে বিপর্যয়কর নয়, তবে আমাদের অনেক জায়গায় কাজ করতে হবে।’
ম্যাচে ব্রাজিলের ইতিবাচক দিক হিসেবে উঠে এসেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পারফরম্যান্স। কোচের মতে, আক্রমণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন এই ফরোয়ার্ড।
তিনি বলেন, ‘ভিনি দারুণ খেলেছে, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ও-ই সবচেয়ে বেশি ভীতি ছড়িয়েছে। ওর যে সামর্থ্য আছে, তাতে এই বিশ্বকাপে ও বড় অবদান রাখবে।’
এখন সামনে হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করবে ব্রাজিল।
সিএ/এমই


