অন্য সৌরজগৎ থেকে আগত রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তু ৩আই/অ্যাটলাসে ভিনগ্রহের কোনো উন্নত প্রযুক্তির চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখতে বিস্তৃত অনুসন্ধান চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণের পরও কোনো কৃত্রিম সিগনালের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে গবেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে ভিনগ্রহের সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত নিদর্শন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, ৩আই/অ্যাটলাস এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক পরিব্রাজক। এর আগে ১আই/ওউমুয়ামুয়া এবং ২আই/বোরিসভ নামে আরও দুটি বস্তু আবিষ্কৃত হয়েছিল। বিরল ও অজানা প্রকৃতির এসব বস্তুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জল্পনা রয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করেছেন, এগুলো ভিনগ্রহের উন্নত সভ্যতার পাঠানো কোনো মহাকাশযানও হতে পারে।
সম্প্রতি ভিনগ্রহের প্রাণ ও প্রযুক্তির সম্ভাব্য চিহ্ন অনুসন্ধানে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেটি ইনস্টিটিউট ৩আই/অ্যাটলাসকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। তাদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি কৃত্রিম নয়; বরং স্বাভাবিক প্রাকৃতিক উৎসের একটি মহাজাগতিক বস্তু।
গবেষকরা বলছেন, ফলাফল নেতিবাচক হলেও অনুসন্ধানটি অত্যন্ত মূল্যবান। কারণ ভবিষ্যতে যদি কখনও ভিনগ্রহের কোনো প্রযুক্তিগত বস্তু পর্যবেক্ষণের সুযোগ আসে, তাহলে সেটিকে কীভাবে শনাক্ত করতে হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক সোফিয়া শেখ বলেছেন, “একদিন আমাদের নিজেদের তৈরি ভয়েজার মহাকাশযানটিও অন্য কোনো তারামণ্ডলে গিয়ে ভিনগ্রহের এক একটি কৃত্রিম নিদর্শন হিসেবে গণ্য হবে।
“সেই কথা মাথায় রেখে, আন্তঃনাক্ষত্রিক বিভিন্ন বস্তুর স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক রূপ কেমন হয় তা আমাদের ভালো করে বোঝা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কখনও যদি কৃত্রিম কোনো আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তুর দেখা মেলে তবে তার ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য দেখে আমরা সহজেই তা চিনে নিতে পারি।”
এই অনুসন্ধানে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যালেন টেলিস্কোপ অ্যারে ব্যবহার করে টানা আট ঘণ্টা ধরে ৩আই/অ্যাটলাসকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষকরা বিভিন্ন কম্পাঙ্কে ছড়িয়ে থাকা রেডিও তরঙ্গ বিশ্লেষণ করেন এবং এমন সংকেত খুঁজে দেখেন, যা সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয় না।
পর্যবেক্ষণের সময় প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ ন্যারোব্যান্ড সিগনাল শনাক্ত হয়। এসব সংকেতের বড় অংশই পরবর্তীতে মানবসৃষ্ট বেতার তরঙ্গ বা অন্যান্য পরিচিত উৎস থেকে এসেছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। বিশ্লেষণের বিভিন্ন ধাপ শেষে প্রায় দুইশোটি সংকেত আলাদা করা হলেও পরে সেগুলোও পৃথিবী বা মানবনির্মিত স্যাটেলাইটের উৎস থেকে এসেছে বলে প্রমাণিত হয়।
গবেষণার সহ-লেখক ভ্যালেরিয়া গার্সিয়া লোপেজ বলেছেন, “৩আই/অ্যাটলাস থেকে পাওয়া ফলাফলে উঠে এসেছে, বর্তমানে আমাদের হাতে যে প্রযুক্তি রয়েছে তা দিয়ে এ ধরনের সিগনাল শনাক্ত করা কতটা বাস্তবসম্মত। এ কারণে টেকনোসিগনেচার বা কৃত্রিম প্রযুক্তির চিহ্নগুলো খুঁজে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যেসব বস্তু থেকে সিগনাল পাওয়ার আশা আমরা করছি না, সেগুলোর ক্ষেত্রেও।”
গবেষকদের মতে, এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে মহাকাশে অস্বাভাবিক কোনো বস্তু শনাক্ত হলে বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত তা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভিনগ্রহের সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত চিহ্ন অনুসন্ধানের প্রস্তুতিও আরও শক্তিশালী হবে।
সিএ/এমআর


