ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর অল্প সময় বাকি। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈশ্বিক আসরকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। কে জিতবে বিশ্বকাপ—এই বহুল আলোচিত প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিশ্লেষণ চালিয়েছেন অস্ট্রিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ইনসব্রুকের একদল গবেষক।
গবেষকদের গাণিতিক মডেল ও এআই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় সবার ওপরে রয়েছে স্পেন। তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। দুটি দলেরই সম্ভাবনা ১২ দশমিক ৪ শতাংশ করে। ১১ দশমিক ২ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে জার্মানি।
গবেষক দলটির পূর্বাভাস অতীতেও আলোচনায় এসেছে। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ, ২০১২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ সালের নারী বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে তাদের পূর্বাভাস বাস্তব ফলাফলের সঙ্গে মিলেছিল বলে জানা গেছে। ফলে এবারের বিশ্লেষণও ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
গবেষকদের তথ্যমতে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, আন্তর্জাতিক ম্যাচে সাফল্য, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত রেটিং, ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অবদান এবং বাজারমূল্যসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্য উন্নত মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মূল্যায়ন করে সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে স্পেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানিকে শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পর্তুগাল ও আর্জেন্টিনাকেও সম্ভাবনাময় দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের সম্ভাবনা ৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের সম্ভাবনা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ব্রাজিলের সম্ভাবনা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পূর্বাভাস সম্ভাবনার ভিত্তিতে তৈরি। মাঠের বাস্তবতা, খেলোয়াড়দের ফর্ম, ইনজুরি কিংবা ম্যাচ পরিস্থিতির কারণে ফলাফল যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। গবেষক আচিম জেইলেইসের মতে, এবারের বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াই আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
সিএ/এমআর


