স্মার্টওয়াচ এবং ফিটনেস ট্র্যাকার এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। সকালে দৌড় শেষে অনেকেই নিজেদের পারফরম্যান্স জানতে এই ডিভাইসের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, শরীর ভালো অনুভব করলেও ডিভাইসের তথ্য তার সঙ্গে মিল খায় না। ফলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টওয়াচের বেশিরভাগ তথ্য সরাসরি পরিমাপ করা হয় না; বরং বিভিন্ন অ্যালগরিদম ও অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। এ কারণে এগুলোর নির্ভুলতা অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
ক্যালরি ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা যায়। একটি স্মার্ট ডিভাইস ক্যালরি পোড়ানোর হিসাব ২০ শতাংশের বেশি কম বা বেশি দেখাতে পারে। বিশেষ করে ভারোত্তোলন, সাইক্লিং বা উচ্চ তীব্রতার ব্যায়ামে এই ভুল আরও বাড়ে। এতে খাদ্যাভ্যাসেও ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
স্টেপ কাউন্টের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যায়। হাতের নড়াচড়ার ওপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ গণনা করায় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত ভুল হতে পারে। ভারী কিছু বহন করলে বা হাত কম নড়ালে এই ত্রুটি আরও বাড়ে।
হার্ট রেট মাপার সময় বিশ্রামে থাকলে ফলাফল তুলনামূলক নির্ভুল হয়, তবে ব্যায়ামের তীব্রতা বাড়লে ভুলের সম্ভাবনা বাড়ে। ত্বকের রং, ঘাম বা ঘড়ি পরার ধরনও এতে প্রভাব ফেলে।
স্লিপ স্কোর নির্ধারণেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্মার্টওয়াচ মূলত নড়াচড়া ও হার্ট রেট দেখে ঘুমের অনুমান করে, যা ল্যাবভিত্তিক পরীক্ষার মতো নির্ভুল নয়। ফলে ঘুমের বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে তথ্য অনেক সময় সঠিক নাও হতে পারে।
হার্ট রেট ভ্যারিয়াবিলিটি বা এইচআরভি পরিমাপেও ত্রুটি দেখা যায়। এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি রিকভারি স্কোর অনেক সময় বাস্তব অবস্থার সঙ্গে মিল খায় না।
এ ছাড়া VO₂max অনুমানও পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। ডিভাইসটি সরাসরি অক্সিজেন ব্যবহারের পরিমাণ মাপতে না পারায় এটি কেবল একটি আনুমানিক হিসাব দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ভুল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টওয়াচ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য প্রবণতা বোঝাতে সহায়ক হলেও প্রতিদিনের নির্দিষ্ট সংখ্যাকে চূড়ান্ত হিসেবে ধরা উচিত নয়। নিজের শরীরের অনুভূতি ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়াই বেশি কার্যকর।
সূত্র: ইউরোপিয়ান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি, স্লিপ মেডিসিন রিভিউজ ও জার্নাল অব স্পোর্টস সায়েন্সেস
সিএ/এমআর


