বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে ভবিষ্যৎ পৃথিবী কেমন হবে, তা নিয়ে কৌতূহল দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান গবেষণা ও উদ্ভাবনের ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যেই আমাদের দৈনন্দিন জীবন আমূল বদলে যেতে পারে। ২০৫০ সালের পৃথিবীতে এমন অনেক প্রযুক্তি বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে, যা এখন কেবল কল্পনায় সীমাবদ্ধ।
ন্যানো-মেডিসিন প্রযুক্তি ভবিষ্যতের চিকিৎসাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। অতি ক্ষুদ্র ন্যানো-রোবট সরাসরি শরীরের আক্রান্ত কোষে গিয়ে ওষুধ পৌঁছে দেবে। এর ফলে জটিল রোগ যেমন ক্যানসার বা স্নায়বিক রোগের চিকিৎসা আরও নির্ভুল ও কার্যকর হতে পারে।
মহাকাশভিত্তিক অর্থনীতি আগামী দিনের আরেক সম্ভাবনাময় খাত। চাঁদ বা গ্রহাণু থেকে খনিজ আহরণ এবং মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শক্তি ও সম্পদের নতুন উৎস তৈরি হবে। এতে পৃথিবীর জ্বালানি সংকট অনেকটাই কমে আসতে পারে।
ব্যাটারি প্রযুক্তির বিকল্প হিসেবে সুপারক্যাপাসিটর বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এটি খুব দ্রুত চার্জ হতে সক্ষম এবং প্রচলিত ব্যাটারির তুলনায় অনেক বেশি স্থায়িত্ব দিতে পারে। ফলে ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
স্পেশিয়াল কম্পিউটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের পরিবর্তে হালকা চশমার মতো ডিভাইস ব্যবহার করা হতে পারে। চোখের নড়াচড়া বা কণ্ঠস্বর দিয়েই পরিচালিত হবে ডিজিটাল কাজ, যা ভার্চ্যুয়াল ও বাস্তব জগতের মধ্যে সংযোগ আরও সহজ করবে।
ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। ব্যক্তির শরীরের তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভার্চ্যুয়াল সংস্করণ তৈরি করে আগে থেকেই ওষুধ বা চিকিৎসার ফলাফল যাচাই করা সম্ভব হবে।
জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বংশগত রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হতে পারে। ভবিষ্যতে ডিএনএ পর্যায়ে রোগ নিরাময়ের মাধ্যমে অনেক জটিল অসুখ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেটাম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করে অদৃশ্য হওয়ার মতো প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেকে মেরামত করতে সক্ষম অবকাঠামো তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। এতে নির্মাণ খাতে ব্যয় ও ঝুঁকি কমে যাবে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে তৈরি কোয়ান্টাম এআই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে জটিল সমস্যা সমাধান করতে পারবে। এটি বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে।
মহাকাশে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করার প্রযুক্তিও উন্নত হবে। লেজার বা বিশেষ জালের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথকে নিরাপদ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রযুক্তি ভবিষ্যতের শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে কম ঝুঁকিতে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন সম্ভব, যা পরিবেশবান্ধব জ্বালানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
সূত্র: বিবিসি সায়েন্স ফোকাস ম্যাগাজিন
সিএ/এমআর


