মানুষের মস্তিষ্ককে প্রাণিজগতের সবচেয়ে উন্নত হিসেবে ধরা হলেও, অন্যান্য অনেক প্রাণীর মধ্যেও বিস্ময়কর বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ডলফিন, শিম্পাঞ্জি, কাক, পিঁপড়া ও নেকড়ের মতো প্রাণীরা জটিল সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ এবং সামাজিক আচরণে অসাধারণ দক্ষতা দেখায়।
ডলফিনকে প্রাণিজগতের অন্যতম বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেহের তুলনায় তাদের মস্তিষ্ক বড় এবং তারা আত্মসচেতন। আয়নায় নিজেকে চিনতে পারা তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এছাড়া শিকার ধরতে কৌশল ব্যবহার, পরিবেশকে কাজে লাগানো এবং অন্যের আচরণ অনুকরণ করার মতো ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
কাকও পরিকল্পনা ও সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত পারদর্শী। পরীক্ষায় দেখা গেছে, তারা একাধিক বিকল্পের মধ্যে সঠিক উপায় বেছে নিয়ে তালা খুলতে পারে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে লক্ষ্য অর্জনের ক্ষমতাও তাদের রয়েছে, যা উন্নত চিন্তাশক্তির ইঙ্গিত দেয়।
শিম্পাঞ্জির বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। তারা আয়নায় নিজেকে চিনতে পারে এবং বিভিন্ন সংকেত বা ভাষা বুঝতে সক্ষম। যন্ত্রপাতি ব্যবহার, সামাজিক আচরণ এবং অন্যের কাছ থেকে শেখার ক্ষমতা তাদেরকে মানুষের খুব কাছাকাছি অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
পিঁপড়ারা ছোট হলেও তাদের সংগঠিত জীবনযাপন এবং সমন্বিত কাজের ধরন অত্যন্ত উন্নত। তারা পরিবেশের নানা সংকেত ব্যবহার করে পথ খুঁজে নেয়, খাদ্য সংগ্রহ করে এবং দলবদ্ধভাবে জটিল কাঠামো তৈরি করে। অনেক বিজ্ঞানী তাদেরকে একটি কার্যকর প্রাকৃতিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে দেখেন।
নেকড়েরাও সামাজিক ও বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে পরিচিত। তারা দলবদ্ধভাবে শিকার করে, জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে এবং সমস্যা সমাধানে দক্ষতা দেখায়। গবেষণায় দেখা গেছে, তারা নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণিজগতের বুদ্ধিমত্তা একক কোনো মাপকাঠিতে নির্ধারণ করা যায় না। বিভিন্ন প্রাণী বিভিন্নভাবে তাদের বুদ্ধি প্রয়োগ করে, যা তাদের টিকে থাকার কৌশলকে আরও শক্তিশালী করে।
সূত্র: সেন্টিয়েন্ট মিডিয়া ডটকম, আর্থ রেঞ্জার্স ডটকম, ব্রিটানিকা
সিএ/এমআর


