স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করে রাখলে ব্যাটারি বেশি সময় চলে। তবে প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম এই ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়।
বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ডিভাইসে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা অব্যবহৃত অ্যাপগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ব্যবহারকারী নিজে থেকে অ্যাপ বন্ধ না করলেও সিস্টেম নিজেই রিসোর্স ব্যবস্থাপনা করে নেয়। এতে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার অ্যাপ বন্ধ করে আবার চালু করলে বরং বেশি শক্তি খরচ হতে পারে। কারণ প্রতিবার অ্যাপ নতুন করে চালু করতে প্রসেসরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
ব্যাটারি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ফোনের স্ক্রিন। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমানো, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং ব্যাটারি সেভার মোড ব্যবহার করলে ব্যাটারি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায়।
এ ছাড়া আধুনিক ডিভাইসে অপটিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং ও অ্যাডাপটিভ ব্যাটারি ফিচার রয়েছে, যা চার্জিং প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারি ভালো রাখতে চার্জ ৪০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখা সবচেয়ে উপকারী। একেবারে শূন্যে নামিয়ে বা সবসময় ১০০ শতাংশ চার্জে রাখলে ব্যাটারির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ব্যাটারি সংক্রান্ত আরও একটি প্রচলিত ধারণা হলো, এটি ফ্রিজে রাখলে আয়ু বাড়ে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ব্যাটারি সংরক্ষণ করাই নিরাপদ বলে পরামর্শ দেওয়া হয়।
সূত্র: পপুলার মেকানিকস
সিএ/এমআর


