রাতের আকাশে দিক নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো ধ্রুবতারা বা পোলারিস খুঁজে বের করা। উত্তর গোলার্ধের আকাশে এই নক্ষত্রটি সারা বছর একই স্থানে স্থির থাকে এবং ঠিক ভৌগোলিক উত্তর দিক বরাবর অবস্থান করে। বিশ্বখ্যাত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ওয়ান্ডার লেসন সিরিজে এই নক্ষত্র চেনার পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ধ্রুবতারা মূলত পৃথিবীর উত্তর মেরুর সরাসরি ওপরে অবস্থিত বলে এটি দিক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একটি প্রাকৃতিক কম্পাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। দিকহারা পথিক থেকে শুরু করে নাবিক পর্যন্ত সকলে এই তারার সাহায্যে পথ খুঁজে নিয়েছেন।
ধ্রুবতারা খুঁজে পেতে হলে প্রথমে রাতের আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল বা বিগ ডিপার খুঁজে নিতে হবে। এই নক্ষত্রপুঞ্জটি হাতাওয়ালা বাটির মতো আকৃতির। বাটির বাইরের প্রান্তে থাকা দুটি নক্ষত্র মেরাক ও দুভেকে বলা হয় নির্দেশক নক্ষত্র। মেরাক থেকে দুভে পর্যন্ত একটি কাল্পনিক রেখা টেনে সেটিকে সামনের দিকে বাড়িয়ে দিলে যে উজ্জ্বল নক্ষত্রে গিয়ে থামবে, সেটিই পোলারিস বা ধ্রুবতারা। দুভে থেকে পোলারিস পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৩০ ডিগ্রি, যা হাতের তিনটি মুষ্টির প্রস্থের সমান।
পোলারিস নামটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ স্টেলা পোলারিস থেকে, যার অর্থ মেরু নক্ষত্র। তবে এই উপাধি চিরস্থায়ী নয়। পৃথিবীর অক্ষের ধীর পরিবর্তনের কারণে সময়ের সঙ্গে উত্তর মেরুর তারা বদলে যায়। প্রাচীন মিসরীয়রা যখন পিরামিড নির্মাণ করেছিল, তখন উত্তর মেরুর তারা ছিল ড্রাকো নক্ষত্রপুঞ্জের থুবান। আবার আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর পর সেফিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জের একটি তারা এই ভূমিকা পালন করবে।
পোলারিস একটি হলুদ দানব নক্ষত্র। এটি আমাদের সূর্যের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ ভারী এবং দুই হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল। যদিও এটি রাতের আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র নয়, তবু খালি চোখেই এটি দেখা যায়। এমনকি আলোক দূষণযুক্ত শহরাঞ্চল থেকেও ধ্রুবতারা দৃশ্যমান থাকে, যা একে দিক নির্ণয়ের সবচেয়ে সহজলভ্য প্রাকৃতিক মাধ্যম করে তুলেছে।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
সিএ/এমআর


