মায়ের গর্ভে কোনো শিশুর মৃত্যু হলে এবং পরে অপারেশন কিংবা স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তাকে মৃত অবস্থায় বের করা হলে তার গোসল, কাফন ও জানাজা সম্পর্কে ইসলামে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো শিশু যদি জীবিত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করার পর মৃত্যুবরণ করে, তাহলে অন্যান্য মুসলমান মৃত ব্যক্তির মতোই তার গোসল, কাফন, জানাজার নামাজ এবং দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শিশুটির নাম রাখারও বিধান রয়েছে।
তবে কোনো শিশু যদি মায়ের গর্ভেই মৃত্যুবরণ করে এবং মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়, তাহলে তার জানাজার নামাজ আদায় করতে হয় না। এ ক্ষেত্রে শিশুটিকে গোসল দিয়ে পরিষ্কার কাপড়ে জড়িয়ে দাফন করার নির্দেশনা রয়েছে।
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, মৃত অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশুকে চাইলে প্রচলিত কাফনের নিয়ম অনুযায়ী কাপড় দিয়েও কাফন দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে শিশুটির একটি নাম রাখাও উত্তম হিসেবে বিবেচিত হয়।
একই বিধান প্রযোজ্য হবে সেসব অসম্পূর্ণ জন্ম নেওয়া মৃত শিশুর ক্ষেত্রেও, যাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, যদি গর্ভপাতের ফলে এমন কিছু বের হয় যা পূর্ণাঙ্গ শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকৃতি ধারণ করেনি এবং কেবল গোশতের টুকরার মতো থাকে, তাহলে সেটিকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে দাফন করে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে জানাজা, গোসল কিংবা নাম রাখার প্রয়োজন হবে না।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে শরিয়তের বিধান জানার পাশাপাশি পরিবারকে ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


