মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র স্থাপনা কাবা শরিফকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান প্রতিদিন নামাজের সময় এই পবিত্র ঘরের দিকে মুখ করে ইবাদত করেন। তবে কাবার বাহ্যিক রূপ সবার পরিচিত হলেও এর ভেতরের পরিবেশ এবং সেখানে থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ খুবই সীমিত।
কাবা শরিফের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত খোলা থাকে না। বিশেষ ধৌতকরণ অনুষ্ঠান এবং সৌদি আরব সরকারের আমন্ত্রিত কিছু বিশেষ অতিথি নির্দিষ্ট সময়ে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান। যারা কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন, তাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে সরলতা, প্রশান্তি এবং গভীর আধ্যাত্মিকতার পরিবেশ।
প্রায় ১২ থেকে ১৩ মিটার উচ্চতার কাবা শরিফের অভ্যন্তরে রয়েছে তিনটি শক্তিশালী কাঠের স্তম্ভ, যা ছাদকে ধারণ করে আছে। ইতিহাসবিদদের মতে, বহু শতাব্দী ধরে এ ধরনের স্তম্ভ ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে এসব স্তম্ভ নান্দনিক অলংকরণে সজ্জিত।
কাবার মেঝে এবং দেয়ালের নিচের অংশ সাদা ও ধূসর মার্বেল পাথরে আবৃত। দেয়ালের উপরের অংশে সবুজ রঙের বিশেষ কাপড় স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে স্বর্ণখচিত ক্যালিগ্রাফিতে পবিত্র কোরআনের আয়াত লেখা রয়েছে।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, কাবা শরিফের প্রথম দিকে কোনো ছাদ ছিল না। পরবর্তীতে এর কাঠামোকে আরও মজবুত ও নিরাপদ করতে ছাদ নির্মাণ করা হয় এবং পরে দ্বিতীয় স্তরের ছাদও সংযোজন করা হয়।
কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশের পর ডান পাশে একটি ছোট সোনালি দরজা দেখা যায়, যা ‘বাবুত তওবা’ নামে পরিচিত। এই পথ ব্যবহার করে কাবার ছাদে ওঠা যায়।
এ ছাড়া ভেতরে বিভিন্ন যুগের ঐতিহাসিক প্রদীপ, মশাল ও ঝাড়বাতি সংরক্ষিত রয়েছে। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন শাসক ও খলিফারা সময়ের পরিক্রমায় এসব উপহার হিসেবে প্রদান করেছিলেন।
ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানও কাবার ভেতরে সংরক্ষিত রয়েছে। মক্কা বিজয়ের পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কাবার ভেতরে নামাজ আদায় করেছিলেন বলে বর্ণিত আছে। সেই স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিশেষ সুগন্ধি সংরক্ষণের জন্য আলাদা স্থান রয়েছে, যেখানে উদ, কস্তুরি, অ্যাম্বার এবং গোলাপজলের মতো সুগন্ধি রাখা হয়। কাবার দেয়ালে বিভিন্ন সময়ের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের সঙ্গে জড়িত শাসকদের নামসংবলিত মার্বেল ফলকও সংরক্ষিত রয়েছে।
যারা কাবার ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন, তাদের অধিকাংশই একমত যে সেখানে বাহ্যিক জাঁকজমকের চেয়ে বেশি অনুভূত হয় বিনয়, প্রশান্তি এবং আল্লাহর মহিমার গভীর উপলব্ধি। মুসলিম উম্মাহর কাছে কাবা শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং এটি ঐক্য, ইবাদত এবং আত্মসমর্পণের এক চিরন্তন প্রতীক।
সিএ/এমআর


