রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতি নতুন করে ধর্ষণবিরোধী আইন ও শাস্তি নিয়ে আলোচনা সামনে এনেছে। এ ধরনের ঘটনায় ইসলামী আইন ও শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কেও বিভিন্ন মহলে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, ধর্ষণ সমাজের অন্যতম জঘন্য অপরাধ এবং এটি মানবিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইসলামে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে এবং অপরাধীর জন্য কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে।
ইসলামী আইনশাস্ত্র অনুযায়ী, বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ককে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধর্ষণের ক্ষেত্রে একদিকে অবৈধ যৌন সম্পর্ক সংঘটিত হয়, অন্যদিকে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি বা জবরদস্তির বিষয়ও যুক্ত থাকে। ফলে অনেক ইসলামি আইনজ্ঞ ধর্ষণকে সাধারণ ব্যভিচারের চেয়েও গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
পবিত্র কোরআনে ব্যভিচার সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী- তাদের প্রত্যেককে ১০০ বেত্রাঘাত করবে…।’ -সূরা আন-নুর: ২
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘অবিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে শাস্তি একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর বিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে একশ’ বেত্রাঘাত ও রজম (পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড)।’ -সহিহ মুসলিম
ইসলামী আইনবিদদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি অপরাধী নন। তিনি জোরপূর্বক নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তার ওপর কোনো শাস্তি প্রযোজ্য হয় না। শাস্তি কেবল অপরাধীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায়ও ধর্ষণের ঘটনায় নির্যাতিত ব্যক্তিকে দায়মুক্ত রাখা এবং অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়। ইসলামি আইনশাস্ত্রের আলোচনায় বলা হয়, ধর্ষণের সঙ্গে যদি সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হত্যার মতো অপরাধ যুক্ত হয়, তাহলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত শাস্তিও বিবেচিত হতে পারে।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, ধর্ষণের মতো অপরাধ প্রতিরোধে শুধু শাস্তির বিধানই যথেষ্ট নয়। নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাদের মতে, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধপ্রবণতা কমানো সম্ভব। মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে সমাজে এ ধরনের অপরাধ হ্রাস পেতে পারে।
সিএ/এমআর


