সন্তানের সুস্থ মানসিক ও সামাজিক বিকাশে ধৈর্য, সময় দেওয়া এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন শিশু বিকাশ ও প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শিশুদের আচরণগত পরিবর্তনকে শাস্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে সঠিকভাবে বোঝা এবং ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দেওয়া বেশি কার্যকর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের বেড়ে ওঠার বিভিন্ন ধাপে আচরণে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। অনেক সময় তারা অস্থির আচরণ করে, অকারণে দৌড়াদৌড়ি করে কিংবা বড়দের কথোপকথনের সময় মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে। এসব আচরণ সবসময় অবাধ্যতা নয়; বরং বয়সজনিত স্বাভাবিক বিকাশের অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
তাদের মতে, ছোট শিশুদের মধ্যে ভালো ও মন্দের পূর্ণাঙ্গ ধারণা তৈরি হতে সময় লাগে। ফলে তারা অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে এমন আচরণ করতে পারে, যা বড়দের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়। কখনও কখনও জিনিসপত্র ছোড়া বা আক্রমণাত্মক আচরণও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব পরিস্থিতিতে কঠোর শাসন বা বকাঝকা সবসময় কার্যকর সমাধান নয়। বরং শিশুর মানসিক অবস্থাকে বোঝার চেষ্টা করা এবং ধৈর্যের সঙ্গে তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করা প্রয়োজন।
তারা জানান, সাধারণত ছয় বছর বয়সের পর শিশুরা বড়দের নির্দেশনা বেশি গ্রহণ করতে শুরু করে। এ সময় পরিবারের পরিবেশ তাদের আচরণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবারে যদি নিয়মিত ঝগড়া, চিৎকার বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ থাকে, তাহলে শিশুর আচরণেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
আধুনিক প্যারেন্টিং ধারণা অনুযায়ী, সন্তানকে কেবল শাসন করাই যথেষ্ট নয়; বরং সময় নিয়ে ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখানো প্রয়োজন। কর্মব্যস্ততার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারেন না, যা অনেক ক্ষেত্রে আচরণগত সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সন্তানের সঙ্গে তার বয়স উপযোগী বন্ধুসুলভ সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। এতে শিশু আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ করতে শেখে।
তারা আরও বলেন, সন্তানের সঙ্গে কথা বলার সময় চোখে চোখ রেখে কথা বলা পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি রাগ নিয়ন্ত্রণ করে শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা জরুরি। প্রয়োজন হলে হাসি-ঠাট্টা ও আনন্দময় পরিবেশের মাধ্যমে শিশুর মানসিক চাপ কমিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধৈর্য, ভালোবাসা এবং নিয়মিত যোগাযোগই শিশু লালন-পালনের সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি, যা ভবিষ্যতে একটি দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে তাকে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
সিএ/এমআর


